পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এবারের ভোট পড়ার হার যেন নতুন ইতিহাস লিখেছে। প্রথম দফায় প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় ৯১ শতাংশের বেশি ভোটদান, রাজ্যের ভোট-ইতিহাসে বিরল।
এই বিপুল ভোটদান স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে, এ কি পরিবর্তনের বার্তা? ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাফল্যের পর কি এবার পশ্চিমবঙ্গেও জয় পেতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি? নাকি রাজ্যের মানুষ আবারও আস্থা রাখবেন তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর?
এদিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ৮৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ার ঘটনাও আলোচনার কেন্দ্রে।
বুথফেরত সমীক্ষার বড় অংশই ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে এবং বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে জোট সরকারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই নির্বাচনে আরেকটি বড় পরিবর্তন নজরে এসেছে। ভোট-পরবর্তী সময়ে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা তার রাজনৈতিক জীবনে বিরল। শুধু তাই নয়, ভোটের দিনও তাকে বিভিন্ন বুথে ঘুরতে দেখা গেছে। বিরোধীদের মতে, এই সক্রিয়তা চাপেরই ইঙ্গিত।
বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে মুখ খুলে মমতার অভিযোগ, অর্থের প্রভাব খাটিয়ে বিজেপি সংবাদমাধ্যমকে প্রভাবিত করেছে। তার দাবি, তৃণমূল ২২৬টির বেশি আসনে জিতবে, এমনকি ২৩০-ও ছুঁতে পারে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে এবং ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী আত্মবিশ্বাসী, তার দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরোষই বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবে।
সব জল্পনার অবসান হবে ৪ মে, ফল ঘোষণার দিনে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি একই দিনে অসম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরিতেও ফল প্রকাশিত হবে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর ফলাফল নিয়েও যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে, সেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন কি না, নাকি নতুন শক্তি হিসেবে অভিনেতা বিজয় থলপতির দল উঠে আসবে, সেটাও দেখার বিষয়।
বিশ্লেষরা বলছেন আসলে ৪ মে জানা যাবে-বাংলা কি নতুন পথে হাঁটবে, নাকি পুরোনো আস্থাই বজায় থাকবে।