শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সেমিস্টার ফাইনালের ভাইভায় ‘লুঙ্গি, ফতোয়া ও গামছা’ পরে বাঙালি কৃষক সাজে অংশগ্রহণ করেছেন বাংলা বিভাগের মো. আশিকুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে তিনি ভাইভায় অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীর দাবি―কৃষক, শ্রমিক, রেমিট্যান্স যোদ্ধাসহ মেহনতি মানুষরা বৈষম্যের স্বীকার। এ ছাড়া বৈশাখ মাসে সংগ্রামী কৃষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তার আজকের এই ব্যতিক্রমী পোশাকে ভাইভায় অংশগ্রহণ।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর শিক্ষকদের মুখে শুনেছি তোমরা চাষাভুষার (কৃষক) টাকায় পড়াশোনা করো। কিন্তু আজ যখন চারদিকে তাকাই, দেখি সেই চাষা-ভূষা আর মেহনতি মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের উদাসীনতা ও বৈষম্য।
আশিক বলেন, গত দুয়েক বছরে শাবিপ্রবিতে কাজ করতে গিয়ে দুজন শ্রমিক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। জানি না তাদের মৃত্যুর পর তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা রাষ্ট্র পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা যদি নেয়া হয়েই থাকে, তবে প্রতিবছর কেন শ্রমিকের মৃত্যু হচ্ছে? সেটার জবাবদিহি করার কেউ নেই। তাদের জন্য খুব কম মানুষই আওয়াজ তোলেন, কারণ তারা শ্রমিক, চাষাভষা। প্রতিবাদ আজ অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি ‘স্যাড রিঅ্যাক্ট’ আর কয়েক শব্দের কমেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তথাকথিত সুশীল সমাজ বরাবরের মতোই নীরব।
তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বর্তমানে সারাদেশে কৃষকের সোনার ধান তলিয়ে যাচ্ছে। তাদের ফসল রক্ষায় সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে, আমাদের কৃষক, শ্রমিক, রেমিট্যান্স যোদ্ধাসহ সব মেহনতি মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে অবহেলা, উদাসীনতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আমি আমার তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল ভাইভায় প্রথাগত ‘ফরমাল’ পোশাকের পরিবর্তে মেহনতি মানুষের চিরচেনা পোশাক ‘লুঙ্গি, ফতোয়া ও গামছা’ পরে অংশ নিয়েছিলাম। ভাইভা বোর্ডে শিক্ষকরা যথেষ্ট আন্তরিক ছিল। তারা এটার প্রশংসা করেছে। পাশাপাশি তাদের আন্তরিকতা ছিল মুগ্ধ করার মতো।