Image description

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অচলাবস্থা যখন বৈশ্বিক বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে, তেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ঠেলে দিচ্ছে, তখন ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বলছে- যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নেই’। এই মন্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন- এমন আইনি ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হতে চলেছে।

ট্রাম্প টিমের ধারণা, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যত এই সময়সীমাকে ‘স্থগিত’ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনকে যখন ৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধে নেই।’

তিনি এনবিসি নিউজকে বলেন, আমার মনে হয় না আমরা এখন সক্রিয়, সরাসরি বোমাবর্ষণ বা গুলি চালানোর মতো কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নেই। বর্তমানে আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, এই সংবেদনশীল আলোচনার সময়ে প্রশাসনের আগে গিয়ে কিছু বলতে আমি খুব সতর্ক থাকব। তাই বিষয়টি কীভাবে এগোয়, তা দেখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমাকে ‘স্থগিত’ করেছে। ডেমোক্রেট সিনেটর টিম কেইনের প্রশ্নের জবাবে তিনি কংগ্রেসের শুনানিতে এই মন্তব্য করেন। কেইন জানতে চেয়েছিলেন, যুদ্ধ শুরুর ৬০ দিন পূর্ণ হবে ১লা মে। ট্রাম্প প্রশাসন আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন চাইবে কিনা।

হেগসেথ বলেন, শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে আমি হোয়াইট হাউস ও তাদের আইনজীবীদের ওপর নির্ভর করব। তবে আমরা এখন যুদ্ধবিরতির মধ্যে আছি, যা আমাদের বোঝাপড়া অনুযায়ী ৬০ দিনের সময়সীমাকে থামিয়ে দেয় বা স্থগিত করে।

১ মে’র সময়সীমা
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালানোর পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। এতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এবং বেসামরিক বহু মানুষ নিহত হন। জবাবে ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ অবরুদ্ধ করে। ২ মার্চ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে এই সামরিক অভিযানের বিষয়ে অবহিত করেন। ফলে ১লা মে ৬০ দিনের সেই সীমা পূর্ণ হয়, যার পর যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন না পেলে প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে হয়। কিন্তু এমন অনুমোদন না থাকায় এই সময়সীমা হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে সরাসরি সাংবিধানিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

ডেমোক্রেটদের আপত্তি
ডেমোক্রেটদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই আইনি দিক থেকে দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন এবং সময়সীমা পেরিয়ে গেলে তা স্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘন হবে। সিনেটর টিম কেইন হেগসেথের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, আমি মনে করি না আইন এ ধরনের ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে। তিনি বলেন, আমার মনে হয় ৬০ দিনের সময়সীমা হয়তো আগামীকালই (১লা মে) শেষ হবে এবং তখন প্রশাসনের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন দাঁড়াবে।

এরপর কী?
চাপ বাড়লেও যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টা বড় বাধার মুখে রয়েছে। সিনেটে কোনো প্রস্তাব পাস হলেও তা রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পেতে হবে এবং ট্রাম্প তা ভেটো দিতে পারেন। ইতিহাসে ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ খুব কম ক্ষেত্রেই প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করতে পেরেছে। আদালতও সাধারণত এতে হস্তক্ষেপ করতে অনিচ্ছুক। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেই থেকে যায়। তবুও ডেমোক্রেটরা ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণে আনার আশা ছাড়েননি।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে- যা ছিল সংঘাত শেষ করার জন্য ডেমোক্রেটদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার সর্বশেষ উদ্যোগ। সিনেটর অ্যাডাম শিফ এই ব্যর্থ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন। তিনি বলেন, আমার কিছু সহকর্মী বলেছেন ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্টের ৬০ দিনের সীমা পূর্ণ হলেই তারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। সেই সময় এখন এসে গেছে। দুই মাসের যুদ্ধ, ১৩ জন সেনাসদস্যের মৃত্যু এবং বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পর এখন আমাদের স্বীকার করা উচিত- এই যুদ্ধের মূল্য ইতিমধ্যেই অনেক বেশি হয়ে গেছে।