Image description

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো সেকশনে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ৩৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিমানের এমডি বরাবর দেওয়া ওই অভিযোগে ওই কর্মকর্তার দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি তাকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগ উঠা ওই কর্মকর্তার নাম মইনউদ্দীন লোটাস। বিমানের কার্গোতে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি।

বিমানে একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশাল সংখ্যক কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। বিষয়টি বিমানে ব্যাপক আলোচনারও জন্ম দিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা অভিযোগটি খতিয়ে দেখছি।”

লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়, বিমানবন্দর কার্গো সেক্টরে চাঁদাবাজি, রোস্টার নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব খাটাচ্ছেন লোটাস। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে কার্গো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ শ্রমিক ও হেলপাররা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কার্গো হেলপার বলেন, “লোটাস কার্গো সেক্টরে একটি আতঙ্কের নাম। বাড়ি বগুড়া দেখে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটান। নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা না দিলে ডিউটি, রোস্টার কিংবা কাজের ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।”

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোস্টার তৈরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নেই। অনুগতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আর যারা চাঁদা দিতে অপারগ বা আপত্তি করেন তাদের কাজ কমিয়ে দেওয়া বা বিভিন্নভাবে চাপে রাখা হয়।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হেলপার বলেন, “আমরা আজ অতিষ্ঠ। বাধ্য হয়েই প্রায় ৪০০ কর্মী এক হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা সবাই স্বাক্ষর সংগ্রহ করছি, যাতে সরকার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।”

অভিযোগে দাবি করা হয়, কার্গো কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের একটি অঘোষিত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এতে শুধু শ্রমিকরাই নন, সামগ্রিকভাবে কার্গো ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন অনিয়ম, ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিমান কর্তৃপক্ষ ২০০৭ সালে লোটাসকে বরখাস্ত করেছিল। বিশেষ সুপারিশ নিয়ে ২০১২ সালে বিমান কার্গো শাখায় পুনরায় যোগ দেন তিনি।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে চার হাজার কেজির মালামাল কোনও প্রকার রাজস্ব ছাড়াই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে খালাস করে বের করা হয়। এ ঘটনাতেও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে লোটাসের।  

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রোস্টার ডিউটিতে লোটাস ও রফিকুল আলমের যৌথ অংশগ্রহণে কার্গো চোরাচালান, কাগজ জালিয়াতি, ভুয়া এক্সিট নাম্বার প্রদান (এক্স নাম্বার) করে গত ৭ ডিসেম্বর সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া সহ বিভিন্ন অপকর্ম সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্গো সেক্টর দেশের আমদানি-রফতানির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে অনিয়ম বা প্রভাব বিস্তার চলতে থাকলে তা শুধু শ্রমিকদের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি করবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে লোটাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। একটি পক্ষ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে।”