Image description

মায়ের ইচ্ছে পূরণে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় হেলিকপ্টারে চড়ে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ফিরলেন প্রবাসী মিলন মধু। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিয়ের বিভিন্ন আয়োজন দেখার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।

 

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নারকেল বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে অবতরণ করে বেসরকারি কোম্পানির একটি হেলিকপ্টার।

এসময় মিলন মধু তার স্ত্রীকে নিয়ে হেলিকপ্টার থেকে নেমে আসেন। সঙ্গে ছিলেন তার মা ললিতা মধু।

 

হেলিকপ্টার থেকে মিলন মধু তার মা ও স্ত্রীকে নিয়ে নামার সঙ্গে সঙ্গে বাজনা বাজিয়ে ও ফুল ছিটিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী তাদের স্বাগত জানান।

মিলন মধু স্থানীয় নারিকেল বাড়ি গ্রামের সতীশ মধুর ছেলে।

তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর জর্ডানে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জর্ডান থেকে দেশে এসেছেন।

 

এর আগে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) একই স্থান থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে মিলন মধু মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার মহিষমারি গ্রামে বিয়ে করতে যান।

banglanews24

কনে মহিষমারি গ্রামের পলাশ সরকারের মেয়ে কলেজছাত্রী প্রেরণা সরকার। পারিবারিকভাবে এ বিয়ে হয়েছে বলে জানান প্রবাসী মিলন মধু।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে জর্ডান থাকি। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে আমি সবার ছোট। আমার মা ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন আমি যেন হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে যাই। তাই মায়ের ইচ্ছে পূরণে আমি হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে যাই। আজ আমি আবার আমার মাকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ফিরলাম। আগামীকাল সোমবার বউভাত অনুষ্ঠিত হবে। এই বৌভাতে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী নিয়ে হাজার খানেক মানুষকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।

মিলন মধুর মা ললিতা মধু বলেন, আমার ইচ্ছে পূরণে মিলন আজ হেলিকপ্টারে চড়ে আমার বউমাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ফিরল। আমার খুব আনন্দ লাগছে। আমি আমার ছেলে ও বউমার জন্য সকলের কাছে আশীর্বাদ চাই। তারা যেন দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে পারে।

এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য বিজয় মধু বলেন, মিলন সম্পর্কে আমার ভাতিজা হয়। সে তার মায়ের ইচ্ছে পূরণে হেলিকপ্টারে চড়ে বৌ নিয়ে বাড়িতে ফিরল। এতে আমরা খুব আনন্দিত। আমাদের এলাকায় হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে এটাই প্রথম।

নারকেলবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, এটি একটি রাজকীয় বিয়ে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। দুদিন আগে মিলন হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে গেছে। আজ আবার স্ত্রী ও মাকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়িতে ফিরে এলো। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মিলনদের বাড়িতে খানাপিনা চলছে। কাল হবে বউভাত। এই বিয়েকে কেন্দ্র করে আমাদের এলাকায় আনন্দমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।