সম্প্রতি স্বাধীন বাংলাদেশে স্থাপিত প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম লেখার ক্ষেত্রে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া অথবা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ লেখা হলেও একটি বৃহৎ অংশ এই নাম পরিবর্তন করে বিশ্ববিদ্যালয় নামের সাথে ঝিনাইদহ জেলা যুক্ত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয় নামের সাথে ঝিনাইদহ যুক্ত করার প্রস্তাবে সমর্থন করায় জোর গুঞ্জন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের। নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু জেলার নাম যুক্ত করার বিষয়টি থাকলেও বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেক পেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে বলে প্রচার করা হচ্ছে যা বিভ্রান্তিকর।
গত শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরামের আয়োজিত “কেমন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল চাই” শীর্ষক উন্নয়ন সংলাপ অনুষ্ঠানে কয়েকজন বক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তে হওয়ায় ক্যাম্পাসের এলাকার একটি বড় অংশ ঝিনাইদহ জেলার মধ্যে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় নামের শেষে শুধু কুষ্টিয়া লেখায় ক্ষোভ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ করার দাবি করেন।
এরপর প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আপনাদের মধ্যে থেকে যদি দাবি আসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ ঝিনাইদহ কুষ্টিয়া করা হোক, আমি সেই দাবিকে সমর্থন করবো।
তবে তার এই ঘোষণার পরেই বিভিন্ন পেজ ও আইডি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে প্রচার করা হয়। তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের ক্ষেত্রে ‘ইসলামী’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করে ‘ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া’ বিশ্ববিদ্যালয় করার যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে তা বিভ্রান্তিকর।
আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে মূলত ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া’র স্থলে ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া’ করার ব্যাপারে বলেছেন। তবে এখনো নাম পরিবর্তন করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি প্রশাসন। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই দাবি জানালেও এখনো তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের কাছে যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।