Image description

চব্বিশের গণআন্দোলনে মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৭ মে দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি এ মামলায় আনা তিনটি অভিযোগই তুলে ধরেন। ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই কখন, কোথায় কী ঘটেছে; এসবের বর্ণনা দেন তিনি।

 

এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপের প্রসঙ্গও সামনে আনা হয়। একইসঙ্গে অন্য আসামিদের উপস্থিতি ভিডিওতে উঠে এসেছে বলেও ট্রাইব্যুনালকে জানান তামিম।

 

প্রসিকিউশনের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে জানিয়ে এ মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন এই প্রসিকিউটর।

 

এরপর গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবীরা। মামলা থেকে আসামিদের ডিসচার্জ (অব্যাহতি) চান তারা। এ ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না বলে জানান এক আসামির আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। এ অপরাধের জন্য আলাদা আইন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৭ মে দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন। তারা হলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। রোববার সকালে কারাগার থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

পলাতকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন। তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।