Image description

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) হল সংলগ্ন বটতলার একটি দোকানের বরাদ্দ বাতিলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আ ফ ম কামাল উদ্দীন হল সংসদ ভিপি জি এম‌ এম রায়হান কবিরের নামে।

দোকানের নাম রাবেয়া ভর্তা বাড়ি এবং মালিকের নাম বাবুল। তিনি‌ বটতলায় হালিম, খিচুড়ি, ডিম, মুরগি সহ কয় প্রকারের খাবার বিক্রি করেন।

বুধবার চারজন ছাত্র এসে বাবুলের দোকান বন্ধ করে দেন। এরপর আ ফ ম কামাল উদ্দীন হল সংলগ্ন বটতলার দোকান বন্ধে রায়হান কবিরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাংবাদিকদের যোগাযোগের পর নিজের দোষ এড়াতে তিনি আনুমানিক রাত ৯টার দিকে তিনি বাবুলের দোকানে এসে ১০ মিনিটের মধ্যে দোকান খুলতে বলেন।

তার কথা মতো দোকান দ্রুত না খুললে দোকানের বরাদ্দ বাতিল করে দেওয়ার হুমকি দেন রায়হান। এরপর দোকানদারের ওপর চড়াও হয়ে রায়হান বলেন, বরাদ্দ বাতিল এবং আমার অনুমতি ছাড়া আপনি দোকান খুলতে পারবেন না। এরপর দোকানদার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে হল সংসদের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর হল সংসদ এবং হলের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করেন।

হল সংসদ সূত্রে মতে, হলের ভিপি রায়হানের সাথে দোকানদার বাবুলের ঝামেলা হলে তিনি হল সংসদের সাথে যোগাযোগ করেন। হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে তাদের কাছে সহযোগিতা চান। এক পর্যায়ে ওই হলের আবাসিক শিক্ষক অসীম চন্দ্র রায়, ওয়ার্ডেন শিবলী নোমানের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান হয়।

দোকানদার বাবুল বলেন, রায়হান ভাই আসার পর একটু সমস্যা হয়েছিল। উনি আমাকে বলেছিলেন আমি না বলা পর্যন্ত দোকান খুলবেন না আপনি।

হল সংসদ ভিপি জি এম‌ এম রায়হান কবির বলেন, আমি গিয়ে সকল দোকান মালিককে ডেকে করা ভাষায় বলছি যে তাড়াতাড়ি দোকান খুলে দেন। আমরা হল প্রশাসন, সংসদ জানিনা আমাদের না জানিয়ে কে দোকান বন্ধ করেছে, আপনি তাড়াতাড়ি দোকান খুলে দেন। তখন তিনি বলছেন যে সবাই দোকান খুলে দিলে আমরাও খুলে দেবো। আমি দোকান বরাদ্দ বাতিল এই বিষয়ে কোনো কথা বলিনি।

দোকানের বরাদ্দ বাতিলের হুমকি প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে আবাসিক শিক্ষক অসীম চন্দ্র রায় বলেন, দোকানদার আমাদের কাছে এসে জানিয়েছেন, ভিপি তাকে বরাদ্দ বাতিলের কথা বলেছেন। তখন আমরা তাকে জানাই, বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার হল প্রশাসনের। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দোকান চালু থাকবে এবং তাকে পরদিন থেকেই দোকান খুলতে বলা হয়েছে।

হলের ওয়ার্ডেন শিবলী নোমান বলেন, ঘটনার দিন দোকানদার দোকানদার বাবুল ভাই হলে আসেন। তিনি জানান বটের সব দোকানের সাথে সাথে তিনিও দোকান বন্ধ রেখেছিলেন।

পরবর্তীতে হল সংসদের ভিপি দোকান খুলতে বললে সবাই দোকান খুললে নিজেও খুলবেন বলে জানায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক দোকান খুলতে রাজি না হওয়ায় হল সংসদের ভিপি তার দোকান বরাদ্দ বাতিলের কথা বলেন ও দোকান খুলতে মানা করেন। এই অবস্থায় তিনি কী করবেন তা জানতে চান।

উপরোক্ত ঘটনায় হলের শিক্ষকগণ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দোকান খোলার নির্দেশনা দেয় এবং কোনো সমস্যা হলে হল অফিসকে জানানোর জন্য তাকে বলা হয়। এই ঘটনায় হলের শিক্ষকগণ দোকানদারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে, দুই পক্ষের কোনো 'মীমাংসা'-র ঘটনা ঘটেনি।”