Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর রিডিং রুম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার কার্যক্রমের প্রথম ধাপ হিসেবে ফজিলাতুন্নেছা হলের তিনটি রিডিংরুমে ১৫ টন  এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের দুইটি রিডিংরুমে ১৩ টন এসি হস্তান্তর করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু)।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলাতুন্নেছা হলে ও বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে এসিগুলো হস্তান্তর করেন ডাকসু নেতৃবৃন্দ।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গরম ও অস্বস্তিকর পরিডাকসুবেশে পড়ালেখার করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে ডাকসুর উদ্যোগে হলের রিডিং রুমগুলোকে এসির আওতায় আনা হয়। প্রথম ধাপে দুটি হল ও একটি হোস্টেলের এসি হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর বাকি হলগুলো খুব শীঘ্রই এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়েমা হক বিদিশা। এছাড়া সেখানে ডাকসুর ভিপি (সহ-সভাপতি) সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, কমনরুম পাঠকক্ষ এবং ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা,ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলেয়া বেগম, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের অধ্যাপক ড. মাহবুবা সুলতানা, ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের ভিপি তাসনিম আক্তার আলিফ নাবিলা, জিএস রিফা, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের জিএস নিশিতা জামান নিহা, হল দুটির আবাসিক শিক্ষকবৃন্দ সহ ডাকসু ও হল সংসদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডাকসুর কমনরুম পাঠকক্ষ এবং ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা বলেন, ‌‌‌‌‌‌‘আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর রিডিং রুমে আধুনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) স্থাপন কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শুরু করেছি। এরই অংশ হিসেবে আজ ফজিলাতুন্নেছা হল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের রিডিং রুমে এসি হস্তান্তর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য আরও আরামদায়ক ও উপযোগী পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে খুব শিগ্‌গিরই সুলতানা কামাল হোস্টেলেও এ কার্যক্রমের আওতায় এসি হস্তান্তর করা হবে। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলের রিডিং রুমে এসি হস্তান্তর করা হবে।’

এসি হস্তান্তরে ব্যাপারে ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘ আমাদের ইশতেহারের অংশ হিসেবে রিডিং রুমে এসি স্থাপনকে আমরা অনেক আগেই বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে স্পন্সর ম্যানেজ করেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ছয় মাস পর আজ তা বাস্তবায়ন হচ্ছে। একইভাবে কেন্দ্রীয় মসজিদের উন্নয়ন, ছাত্রীদের জন্য জিমনেসিয়াম ও কেন্দ্রীয় মাঠ সংস্কারসহ বড় বড় উদ্যোগে আমরা স্পন্সর সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও প্রশাসনের বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতায় সেগুলো এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। তারপরও আমরা নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে অতি দ্রুত এসব কাজ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সত্যিকারের স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ে তোলা যায়। আমরা আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের সকল ইশতেহার পূরণের কাজ চলমান রয়েছে, সেগুলো বাস্তবে রূপ পাবে এবং শিক্ষার্থীরা এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।’

ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়েমা হক বিদিশা বলেন, ‘বর্তমান তাপমাত্রা ও গ্রীষ্মের দাপদাহ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের জন্য আরামদায়ক ও পড়াশোনাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই এসি হস্তান্তর উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টারই অংশ, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে সহায়তা করবে। এ জন্য ডাকসু, সংশ্লিষ্ট স্পন্সর, কমনরুম পাঠকক্ষ এবং ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ফজিলাতুন্নেছা হল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল দুটি একটু দূরে অবস্থিত হওয়ায় যাতায়াত ও যোগাযোগের সমস্যা রয়েছে। যা কমাতে আমরা গত এক বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি এবং বাস সার্ভিসসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই এই সমস্যাগুলো আরও কমানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ 

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের সময় আমরা একটি স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—যেখানে থাকবে উন্নত একাডেমিক পরিবেশ, মানসম্মত আবাসন, আধুনিক রিডিংরুম, নিরাপদ ক্যাম্পাস ও গবেষণার সুযোগ। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু চলমান আছে; তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও অসহযোগিতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি বিলম্বিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ ফজিলাতুন্নেছা হল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল এবং সুলতানা কামাল হোস্টেলের রিডিংরুমে এসি স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই দুটি হলের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রি ডাবল-ডেকার বাস সার্ভিস ( ওয়াইফাইসহ) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী মাসে উদ্বোধন করা হবে। মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর করা হয়েছে এবং নিরাপদ প্রবেশ নিশ্চিত করতে স্মার্ট সিকিউরিটি গেট স্থাপনের উদ্যোগও চলমান। শিক্ষার্থীদের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’