সিলেট নগরীর যতরপুর এলাকায় শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের কবলে পড়ে জিম্মি অবস্থায় ছিলেন। এ সময় দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে গোলাপগঞ্জের বাদে রনকেলী গ্রামের মাহমুদুল হাসান রিফাত ও তার বন্ধু মাহফুজ আলী নগরীর মেন্দিবাগ পয়েন্টে আসেন। সেখানেই হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্যরা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। এর পর যতরপুর এলাকার নবপুষ্প-১১৩ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় নিয়ে জিম্মি করে। সেখানে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং ইলেকট্রিক শক দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। চক্রের চাপের মুখে রিফাত তাঁর স্বজনদের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে তাদের হাতে তুলে দেন।
পরিবারের লোকজন বিষয়টি কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে জানালে দ্রুত অভিযান শুরু হয়। পুলিশ অভিযানে গিয়ে দুই যুবককে উদ্ধার করে এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কানাইঘাটের বাউরবাগ এলাকার জুবায়ের আহমদ রাজুর স্ত্রী তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা, গোয়াইনঘাটের জাফলং এলাকার আব্দুল জলিল, নগরীর মিরাবাজার আগপাড়া এলাকার জেসমিন আক্তার ও দক্ষিণ সুরমা গঙ্গানগরের জায়েদ আহমদ। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেট কার, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও তিনটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।