রাজধানীর মিরপুর-১৫ নম্বরে অবস্থিত বিজয় রাকিন সিটিতে প্রশাসক ও কথিত চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বাসিন্দারা। শনিবার (১১ এপ্রিল) মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি (মুমুপকস) এবং বিজয় রাকিন সিটির সর্বস্তরের বাসিন্দাদের যৌথ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বর্তমান প্রশাসকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ আর্থিক দুর্নীতি, চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্রের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং নিরপরাধ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মিরপুর রোড অবরোধ ও আমরণ অনশনসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে বর্তমান প্রশাসক আবু মো. ইশতিয়াক আজিজের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য লুটপাটের’ অভিযোগ তোলা হয়। বক্তাদের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েক মাসে তিনি সমিতির ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। তাদের প্রশ্ন, যেখানে সমিতির মাসিক নিয়মিত ব্যয় মাত্র ২৫ হাজার টাকা, সেখানে কয়েক মাসে এত বিপুল অর্থ উত্তোলনের যৌক্তিকতা কী।
বক্তারা আরো বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে প্রশাসক এবং তার সহযোগী খ ম আমির আলীকে পূর্বে জামুকা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
তাই তাদের অপসারণ করে ২০২৪ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বৈধ কমিটিকে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে জানানো হয়, এর আগেও আবু মাসুদ নামের এক প্রশাসক সমিতির এক কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন এবং পরে আরও ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেন। ওই বিষয়ে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, বিজয় রাকিন সিটির এক হাজার ৯৫০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে সমিতির বরাদ্দপ্রাপ্ত ৮৭০টি এবং ডেভেলপারের কাছ থেকে কেনা সব ফ্ল্যাটই বৈধ।
তাদের অভিযোগ, নঈম জাহাঙ্গীর চক্র প্রশাসনের যোগসাজশে ভূমি মালিক ও ডেভেলপারের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিবন্ধিত বৈধ চুক্তি বাতিলের হুমকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকায় অগ্রিম ফ্ল্যাট বিক্রির পাঁয়তারা করছে।
বক্তাদের দাবি, বৈধ মালিকদের উচ্ছেদ করে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসক ও তার সহযোগীরা সাধারণ বাসিন্দাদের দুর্ভোগে ফেলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সরকারের নাম ব্যবহার করে এবং প্রশাসনকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা চার দফা দাবি ঘোষণা করেন। তাদের দফাগুলো হলো : বর্তমান প্রশাসক ও তার সহযোগীদের অপসারণ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার; ২০২৪ সালে সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত বৈধ কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর; বৈধ ফ্ল্যাট ও জমির মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত; নঈম জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
বক্তারা বলেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তারা আরো কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।