Image description

আরব সাগরের নীল জলরাশিতে মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। শান্ত দুপুরে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে জাহাজ। চারদিকে আগুন আর ধোঁয়া। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানেই রক্ষা পান নাবিকরা। সেই শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন জাহাজে থাকা এক বাংলাদেশি নাবিক। 

 

চীনের সাংহাই থেকে ওমানের সোহার বন্দরে যাওয়ার পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছিল পানামার পতাকাবাহী এমভি গোল্ড অটাম। যুদ্ধবিরতির আগের দিন মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ একটি মিসাইল এসে আঘাত হানে জাহাজটিতে। তখন জাহাজে বাংলাদেশি ৬ জনসহ মোট ১৮ জন নাবিক ছিলেন।

জাহানটিতে থাকা বাংলাদেশি নাবিক এহসান সাবরি রিহাদ জানান, দুপুরের খাবার খেয়ে তারা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো জাহাজ। মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। দেরি না করে দ্রুত লাইফ জ্যাকেট পরে তারা ইঞ্জিন কক্ষে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, মিসাইলের আঘাতে ক্রেনের নিচে আগুন জ্বলছে। 

 

পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠায় নিজেদের বাঁচাতে তারা জাহাজের অ্যাকোমোডেশন কক্ষে আশ্রয় নেন। কিন্তু আতঙ্ক তখনো কাটেনি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাদের পেছনে আরেকটি মিসাইল আঘাত হানে। রিহাদের ভাষায়, সামান্য দেরি হলেই সেদিন কেউই বেঁচে থাকতেন না।

জাহাজে থাকা অন্য বাংলাদেশি নাবিকরা হলেন তাওহীদুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মারুফ, সৈকত পাল ও রিয়াদ হোসেন। আহতদের জাহাজেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভয়াবহ সেই পরিস্থিতিতে তারা লাইফবোট নামিয়ে সমুদ্রে ভেসে পড়েন এবং আকাশে ফ্লেয়ার ছুড়ে সাহায্যের আবেদন জানান। দীর্ঘ সাত ঘণ্টা অনিশ্চয়তায় কাটানোর পর রাত সাড়ে আটটার দিকে এমভি ইউনাইচ নামের একটি জাহাজ এসে তাদের উদ্ধার করে।

অন্যদিকে হামলার পর জাহাজের ক্যাপ্টেনসহ ৪ জন পরিত্যক্ত জাহাজেই থেকে যান, যাদের মধ্যে বাংলাদেশের নাবিক মাজহারুল আবেদীন শাওনও ছিলেন। পরে পাকিস্তান নৌবাহিনী অভিযান চালিয়ে সবাইকে উদ্ধার করে।

 

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজ পিএনএস হুনাইন প্রথমে জাহাজে আটকে থাকা নাবিকদের উদ্ধার করে। এরপর অন্য জাহাজ থেকে উদ্ধার করা হয় বাকিদের। বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় তাদের করাচি বন্দরে নেওয়া হয়। বর্তমানে পাঁচ বাংলাদেশি নাবিক করাচির একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। তবে মিসাইল হামলায় পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে দেশে ফেরার অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।