বরগুনা সদর উপজেলার ১০ নম্বর নলটোনা ইউনিয়নের আজগরকাঠী গ্রামে বিষখালী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ কয়লা চুল্লিগুলো বারবার অভিযান, জরিমানা ও ভাঙচুরের পরও বন্ধ হচ্ছে না। কিছুদিন বন্ধ থাকার পরই আবার চালু হচ্ছে এসব পরিবেশবিধ্বংসী চুল্লি। এতে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও চুল্লি ভেঙে ফেলা হলেও অদৃশ্য প্রভাবের কারণে আবার কার্যক্রম শুরু করছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে এসব পদক্ষেপ কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চুল্লিগুলো থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এতে থাকা কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইডসহ ক্ষতিকর গ্যাস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ব্রংকাইটিসের মতো রোগ বাড়ছে। দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া কয়লা পোড়ানোর বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ বিষখালী নদীর পানিতে মিশে জলজ প্রাণীর জন্য হুমকি তৈরি করছে। এতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের জীবিকাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নদীভিত্তিক এই অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু জরিমানা করে দায় শেষ করলে চলবে না। স্থায়ীভাবে এসব অবৈধ চুল্লি বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, বরগুনার সহকারী পরিচালক হায়াত মাহমুদ রকিব বলেন, আবার চালু হলে তাদের বিরুদ্ধে আবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। পরবর্তী সময়ে চালু করলে মামলা দায়েরসহ আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জরিমানাকে উপেক্ষা করে আবার কার্যক্রম শুরু করছে, যা আইনবিরোধী।’
পরিবেশ রক্ষায় এখনই কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। অন্যথায় বিষখালী তীরবর্তী এই নীরব দূষণ একসময় বড় পরিবেশগত ও মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।