যশোরে খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণেই দীর্ঘদিন খাল খনন কর্মসূচি বন্ধ ছিল।
শনিবার কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা এলাকায় বুরুলি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। কিন্তু তাঁর নাম সামনে চলে আসবে- এই কারণে বিগত সরকারগুলো এ উদ্যোগ নেয়নি। এতে দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে চায়। কপোতাক্ষ নদসংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বুরুলি খালের তিন কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে।
উদ্বোধন শেষে তিনি স্থানীয় বুরুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে চারাগাছ রোপণ করেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের সরকার মানুষের দুঃখ-কষ্টে সমব্যাথী। আমরা এই অঞ্চলের সমস্যার বাস্তব সমাধান করতে চাই। আগের সরকার উন্নয়নের নামে পকেট ভারি না করলে ভবদহের সমস্যা এতদিনে মিটে যেত।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করতে ৮১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদ-নদী পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ভবদহ এলাকায় ২১টি অভ্যন্তরীণ খাল পুনঃখননের কার্যক্রমও চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বর্ষার আগে বাঁধ অপসারণ ও স্লুইচ গেট সচল করার নির্দেশনা দেন,যাতে অন্তত চলতি বছরে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি কিছুটা কমে।
এ সময় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলমান এ কাজে তরুণ সমাজকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানান, বুরুলি খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে বুরুলি, পাথরা, পাঁজিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও কৃষ্ণনগর বিলের পানি সহজে আপার ভদ্রা নদীতে নিষ্কাশন সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন পলিতে ভরাট থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে কৃষকরা ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। তাদের প্রত্যাশা, এবার হয়তো সত্যিই মুক্তি মিলবে পানিবন্দী জীবন থেকে।