সেন্ট মার্টিনের বালিয়াড়িতে লাগানো কেয়াবন কাটার মহোৎসব চলছে। এক শ্রেণির বালিয়াড়ি দখলবাজ দুর্বৃত্ত পরিবেশ বিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে রয়েছে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশ। পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মচারীও রয়েছেন। কিন্তু এপর্যন্ত কেউ বাধা বা কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, সূর্য যখন ধীরে ধীরে নেমে যায় বঙ্গোপসাগরের জলে, তখন আকাশে লালচে আভা ছড়িয়ে পড়ে। ঢেউ ভাঙার শব্দে মিশে থাকে সমুদ্রের চিরচেনা সুর। সেই দৃশ্য দেখতে অনেকেই ভিড় করেন কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপ- এর দক্ষিণপাড়া সমুদ্রসৈকতে। কিন্তু গত শনিবার বিকেলে সেখানে গিয়ে অনেকের মন ভারী হয়ে আসে। যেখানে একসময় ঘন কেয়াবন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকত, সেখানে এখন ফাঁকা বালুচর আর কাটা গাছের গুঁড়ি।
স্থানীয়রা জানায়, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় সারি সারি কেয়া গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কারা বা কোন উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে কাটা গাছের সংখ্যা কম নয়। সৈকতের একটি বড় অংশজুড়ে গাছের শিকড় উপড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
দক্ষিণপাড়ার জেলে আবদুস সালাম বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে এই কেয়াবনের ভেতর দিয়ে সাগরে গেছি। ঝড়ের সময় এই গাছগুলো ঢেউয়ের ধাক্কা অনেকটাই সামলে দিত। এখন যদি এগুলো না থাকে, বড় জলোচ্ছ্বাসে কী হবে- ভাবতেই ভয় লাগে।
দ্বীপের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, সূর্যাস্ত দেখতে গিয়ে তিনি এই দৃশ্য দেখেন। তিনি বলেন, ঘন কেয়াবন ছিল জায়গাটায়। বাতাসে দুলত, ছায়া দিত। এখন শুধু কাটা গুঁড়ি। মনে হয়েছে কেউ দ্বীপের বুক থেকে সবুজ একটা অংশ তুলে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি এইচএম এরশাদ ও সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম কেয়াবন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।