চলতি বছরের শুরু থেকেই ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে উভয়পক্ষই সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনা নিয়ে শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। দেশটি বলছে, তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দিতে নারাজ।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আন্তরিকভাবে আলোচনা করতে চায়, তাহলে ইরান পারমাণবিক চুক্তির জন্য আপস বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, চুক্তি করতে চাওয়ার প্রমাণ দেওয়ার দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের। আলোচনাগুলো ‘কমবেশি ইতিবাচক’ দিকে এগিয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে এখনও সময় রয়েছে।
তখত-রাভানচি আরও বলেছেন, ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি এখন আর কোনো বিষয় নয় এবং ইরানের ক্ষেত্রে আর আলোচনার টেবিলে নেই’।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তি চান। তবে ইরানের সঙ্গে তা করা ‘খুব কঠিন’। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ চায় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন, যা ইরান সরাসরি নাকচ করেছে।
চলতি মাসেই ওমানে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে এবং পরবর্তী বৈঠক জেনেভাতে হওয়ার কথা। ইরান আপসের ইঙ্গিত হিসেবে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
২০১৫ সালের যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ায়। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া ইরানের নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম গ্রহণ করেছিল এবং আবারও তা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষ আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে