ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে হামাসের পাঠানো একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তার ভুল ব্যাখ্যা করেছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এমন দাবি করেছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে হামলার আগে পাওয়া একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার গোলান। ফলে ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলের গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
গ্যালান্ট ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আর্মি রেডিওকে জানান, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের মাধ্যমে হামাসের কাছ থেকে পরোক্ষভাবে একটি বার্তা ইসরায়েলের কাছে পৌঁছেছিল। এতে বলা হয়েছিল, গোষ্ঠীটি ‘কারাগারগুলো কাঁপিয়ে দেবে’। তবে কীভাবে বার্তাটি পৌঁছেছিল, তা তিনি ব্যাখ্যা করেননি।
গ্যালান্ট বলেছেন, শিন বেত ও আমান নামে পরিচিত সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তর বার্তাটিকে ইরাকে অপহৃত ইসরায়েলি গবেষক এলিজাবেথ তুরকভকে অপহরণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেছিল। তুরকভকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ মঙ্গলবার জানায়, হামাসের সাবেক নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার ৭ অক্টোবরের কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের কাছে একটি অস্বাভাবিক বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ইস্যুতে প্রত্যাশিত ‘কারাগারগুলোতে ভূমিকম্প’ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে বার্তাটি কে পৌঁছে দিয়েছিলেন, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে বিরোধী ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা গোলান মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ৭ অক্টোবরের আগে নেতানিয়াহু ‘বিশ্বের সব ধরনের সতর্কবার্তা’ পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ‘সেগুলো উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন’।
নিউইয়র্ক টাইমস ও ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎসে প্রকাশিত অনুসন্ধানের উদ্ধৃতি দিয়ে গোলান বলেছেন, হামাস সম্ভাব্য হামলা চালাতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্য নেতানিয়াহুর কাছে পৌঁছেছিল। তার দাবি, আঞ্চলিক নেতারা ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তার কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন।
গোলান আরও অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দুর্বল করেছেন এবং যারা ‘আসন্ন বিপর্যয়’ সম্পর্কে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন, তাদের কণ্ঠরোধ করেছেন।
গোলান বললেন, ‘পরবর্তী সরকারে আমরা প্রথম যে সিদ্ধান্ত নেব, তা হলো সব ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা, যার মধ্যে সবার আগে থাকবেন নেতানিয়াহু।’ তিনি আরও বলেছেন, সত্য জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবির বিরোধিতা করে আসছেন নেতানিয়াহু। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট হামাসের বড় ধরনের অভিযানের কয়েক দিন আগে তাকে সতর্ক করেছিলেন—হারেৎসের এমন একটি পৃথক প্রতিবেদনও তার কার্যালয় অস্বীকার করেছে।
৭ অক্টোবরের ঘটনার পর ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত, প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ আহত এবং পুরো উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।