ইয়েমেনে সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে হামাস। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান খলিল আল-হাইয়া বলেছেন, তারা ইতিমধ্যে এ প্রস্তাব দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তা গ্রহণ করবে বলে আশা করছেন।
শনিবার কাতারভিত্তিক আল আরাবি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন খলিল আল-হাইয়া। গত জুলাইয়ে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকার।
খলিল আল-হাইয়া বলেন, ‘আমরা ইয়েমেনে বিরোধ ও সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছি। আমি আশা করি, এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।’
২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে নেয় হুতিরা। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে তাদের সংঘাত চলছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটা স্থবির থাকলেও গত জুলাইয়ে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই সময় হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করে এবং পরে উপকূলীয় বেশ কিছু এলাকা দখলের দাবি করে।
সাক্ষাৎকারে খলিল আল-হাইয়া জানান, গত বছর থেকে হামাসের নেতারা চারবারের বেশি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় ফিলিস্তিন ইস্যু, গাজা উপত্যকা এবং ফিলিস্তিনিদের বিভিন্ন দাবি গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমেরিকানদের কাছ থেকে বোঝাপড়ার মনোভাব পেয়েছি। ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য আলোচনায় আমরা বোঝাপড়া ও প্রশংসার কথা শুনেছি। তবে আমরা বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ চাই।’
গাজার বিষয়ে ঘোষিত রূপরেখা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গাজায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রচেষ্টায় ইসরায়েল বাধা দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ঐক্যের প্রসঙ্গে খলিল আল-হাইয়া বলেন, জাতীয় কর্মসূচি ও রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তি তৈরির জন্য হামাস ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হলে বৃহত্তর জাতীয় কাঠামো গঠনের প্রচেষ্টায় বিদ্যমান রাজনৈতিক জোট অন্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর জন্যও উন্মুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।
খলিল আল-হাইয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংকটের মধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যু আড়ালে চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমঝোতার সুযোগ নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি রাষ্ট্র গঠন করতে না পারলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হবে না। ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার কথাও জানান হামাসের এই নেতা।