Image description

১৭ সেপ্টেম্বর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত অবস্থান কর্মসূচির অনুমতি শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ার পর সমালোচনার জবাব দিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। বোর্ড বলেছে, গুরুতর, নীতিনিষ্ঠ ও আইনি সংগ্রামই তাদের কর্মপদ্ধতি। অবস্থান কর্মসূচির অনুমতি না পাওয়াকে বোর্ডের দুর্বলতা কিংবা অবস্থান থেকে সরে আসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বোর্ডের মুখপাত্র ড. সৈয়দ কাসেম রাসুল ইলিয়াস বলেন, বোর্ডের সিদ্ধান্ত সাময়িক আবেগের ভিত্তিতে নয়; বরং শরিয়াহ, দেশের আইন, মুসলিমদের স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বিবেচনা করে নেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাজারো মুসলিম তরুণ গ্রেপ্তারের শিকার হওয়ায় এমন কোনো আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়, যার কারণে তরুণরা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।

তিনি বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য বোর্ড সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে কর্মসূচির অনুমতি বাতিল করে দেওয়া হয়। এরপরও বোর্ড তাদের নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

ড. ইলিয়াস বলেন, ‘সংবিধান বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে প্রতিবাদের ধরন ও সময় নির্ধারণ করা হবে।

তিনি দাবি করেন, যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত না হলেও বোর্ডের সংবাদ সম্মেলন ও বক্তব্য গণমাধ্যমে ভারত ও ভারতের বাইরে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়েছে। এর মাধ্যমে বোর্ডের অবস্থান সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে পৌঁছেছে।

বোর্ডের মুখপাত্র আরও বলেন, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম। এতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, মতাদর্শ, মাদরাসা, আলেম ও বুদ্ধিজীবীদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কার্যনির্বাহী পরিষদ ও কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের উপস্থিতিতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়।

মতপার্থক্যকে স্বাভাবিক ও মানুষের অধিকার উল্লেখ করে ড. কাসেম রাসুল ইলিয়াস বলেন, সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান ও মুসলিমদের ঐক্যকে দুর্বল করে—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত। মুসলিমদের ধর্মীয়, আইনি ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় আইনসম্মত, গণতান্ত্রিক ও কার্যকর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: মিল্লাত টাইমস উর্দু