নেপালের সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যায় পাহাড়ের উঁচু ঢাল ও চূড়াগুলো প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমালয়ের লাংতাং অঞ্চলে একটি বিশাল হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় যখন নদীর পানি মুহূর্তের মধ্যে ফুলেফেঁপে ওঠে, তখন একমাত্র পাহাড়ের উঁচু ভূপ্রকৃতিই মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে জীবন বাঁচানোর সুযোগ করে দেয়।
পাহাড় মূলত তিন উপায়ে মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে:
তাৎক্ষণিক প্রাকৃতিক আশ্রয়স্থল
বন্যা আঘাত হানার সাথে সাথে ত্রিশূলী এবং ভোটেকোশী নদী সংলগ্ন নিচু উপত্যকার গ্রামগুলো মুহূর্তের মধ্যে কাদা ও পাথরের নিচে তলিয়ে যায়। এই চরম মুহূর্তে মানুষের কাছে কোনও কৃত্রিম আশ্রয়কেন্দ্র ছিল না। নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলার দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা পানির তীব্র স্রোত দেখে জীবন বাঁচাতে দ্রুত পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে ওপরের দিকে ছুটে যান। পাহাড়ের এই উঁচু অংশগুলো পানির সীমার বাইরে থাকায় তারা মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান।
নিরাপদ উড্ডয়ন ও এয়ারলিফটের সুযোগ
বন্যার তীব্র স্রোতে রাস্তাঘাট ও সেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে নেপাল সেনাবাহিনী আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার মোতায়েন করে। পাহাড়ের ওপরের অক্ষত ও নিরাপদ সমতল অংশগুলো উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য একমাত্র উপযুক্ত স্থান হিসেবে কাজ করেছে। এর ফলে পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নেওয়া শত শত মানুষ ও বিদেশি পর্যটকদের সেখান থেকে এয়ারলিফট করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
দ্বিতীয় দফার বন্যা থেকে রক্ষা
হিমবাহ ধসের পর নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে ভারত-চীন-নেপাল সীমান্তে নতুন অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়। এই বাঁধ বা হ্রদ উপচে পড়ে আবারও তীব্র বেগে পানি নামার আশঙ্কা তৈরি হয়। দ্বিতীয় দফার এই বন্যার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর নদীর তীরবর্তী ও নিচু অঞ্চলের বাসিন্দারা আবারও দ্রুত পাহাড়ের ঢালে আরোহণ করেন এবং সম্ভাব্য আরেকটি বিপর্যয় থেকে নিজেদের রক্ষা করেন।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, হিমবাহ ধসে আসা মৃত্যুর স্রোত যখন নিচু উপত্যকার সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন পাহাড়ের সুউচ্চ অবস্থানই নেপালের দুর্গম অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও পুণ্যার্থীদের জন্য একমাত্র জীবন রক্ষাকারী ঢাল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
সূত্র: ডয়চে ভেলে