নেপালের ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাডে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের পরও বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল গ্রহণের প্রস্তাব আপাতত প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সরকার। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধার সহায়তার প্রস্তাব দিলেও নেপাল জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখেই তারা উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীগুলো বর্তমানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। তাই এই মুহূর্তে বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে সরকার।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেন, ‘সাহায্যের প্রস্তাব আসাটাই স্বাভাবিক, তবে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোই বর্তমানে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাই আপাতত বিদেশী উদ্ধারকারী দলের প্রয়োজন নেই।’
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি র্যাপিড রেসপন্স টিম ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছে। কিন্তু নেপাল সরকার এখনো বিদেশি উদ্ধারকারীদের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা না করায়, তাদের মোতায়েন করা হয়নি।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই অবস্থান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে দেশটির উত্তরাঞ্চলের রসুয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিব্বত সীমান্তবর্তী এই এলাকায় আকস্মিক পানির স্রোত ও ধ্বংসাবশেষে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
বিদেশি উদ্ধার সহায়তা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তের পর নেপালের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রসুয়া জেলা চীন সীমান্তবর্তী হওয়ায় বিদেশি বাহিনী বা উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে নেপাল সরকার বলছে, সিদ্ধান্তটি কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক কারণে নয়; বরং নিজেদের উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।