একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে পঙ্গু করে রেখেছে ইরানের অর্থনীতি। একা নয়; নিষেধাজ্ঞার ছকে ইরানের চলার পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব শাসনের দোসর ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ)। টানা দুই দশক ধরে; ২০০৬ সাল থেকে । বিশ্বরাজনীতির অক্টোপাসে হাঁপসে ওঠা সেই ইরানকে শায়েস্তা করতে গিয়েই রীতিমত কোমর ভেঙে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের! পাঁচ মাসেই টান পড়েছে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুতে! বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৫%-এ । অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি নেমে দাঁড়িয়েছে ১.৫%। সবমিলে লেজেগোবরে অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের।
সবচেয়ে বেহাল অবস্থা সমরভান্ডারের। গতসপ্তাহে কয়েক জন জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ব্যক্তিগত আলোচনায় বর্তমান দেশটির বর্তমান অস্ত্র মজুতকে ‘বিপজ্জনকভাবে নিচু’ বলে বর্ণনা করেছেন। অভ্যন্তরী এক সামরিক মূল্যায়নে থাড ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং মজুত প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের প্রায় অর্ধেকই ফুরিয়ে গেছে। তবে সরকারি পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অনুপস্থিতিতে ‘থাডের ৮০ শতাংশ শেষ–নিশ্চিত তথ্য নয়, বরং একটি সামরিক মূল্যায়নের দাবি।
ইরানের সঙ্গে প্রায় পাঁচ মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত কমে এসেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের। সেই ঘাটতি পূরণে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার উন্নত প্যাক-৩ ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
অন্য দিকে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ব্যবস্থা মেরামত, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদেশ থেকে নতুন অস্ত্র সংগ্রহের তৎপরতায় ইরান। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে আপাত বিরতি থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে নতুন এক অস্ত্র-দৌড়।
গত সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও নর্থরপ গ্রুম্যান ৩০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের দুটি কাঠামোগত চুক্তির কথা জানায়। উৎপাদন সম্প্রসারণের এই উদ্যোগে অংশীদার লকহিড মার্টিনও। লক্ষ্য, প্যাক-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদনক্ষমতা প্রায় তিন গুণ এবং থাড প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদনক্ষমতা চার গুণ।
দূরপাল্লার অস্ত্র প্রায় শেষ
মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের অভ্যন্তরীণ তথ্য সম্পর্কে অবগত দুই সূত্রের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পুরোনো প্রজন্মের অ্যাটাকমস এবং নতুন প্রজন্মের প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যত পুরো মজুত ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে রয়টার্সকে এই তথ্য দিয়েছেন তাঁরা। তবে অস্ত্রভান্ডারের তথ্য গোপনীয় হওয়ায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিরাপদ দূরত্ব থেকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাতের জন্য এই দুই ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন স্থলবাহিনীর প্রধান অস্ত্রগুলোর অন্যতম। প্রতিটির দাম ১০ লাখ ডলারের বেশি।
পুরোনো অ্যাটাকমসের জায়গায় ধীরে ধীরে প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের। তবে নতুন অস্ত্র হওয়ায় যুদ্ধের শুরু থেকেই এর মজুত সীমিত। বড় আকারে নতুন সরবরাহ পেতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষার আশঙ্কা।
এই ঘাটতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যৎ হামলায় মানুষচালিত যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। তাতে বিমান ও বৈমানিক–উভয়ের জন্যই বাড়তি ঝুঁকি।
টোমাহকের ভান্ডারেও ধাক্কা
ইরান-যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর মজুতে থাকা টোমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক ব্যবহারের দাবি এক মার্কিন সূত্রের। তবে সরকারি হিসাব না থাকায় এই সংখ্যাও স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের বাইরে।
যুদ্ধজাহাজ, ক্রুজার ও ডুবোজাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য টোমাহক দিয়ে বৈমানিকদের ঝুঁকিতে না ফেলেই বহু দূরের সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব।
মজুত কমে আসায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেথিয়নের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন-সমঝোতার পথে পেন্টাগন। লক্ষ্য, ক্ষয়িষ্ণু ভান্ডারের দ্রুত পুনর্গঠন।
প্যাট্রিয়ট ও থাডের মজুতে চাপ
আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ক্ষেত্রেও একই সঙ্কট। একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৬৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে থাডের মজুত যুদ্ধের আগের তুলনায় অন্তত ৩৮ শতাংশ কমেছে।
অন্য একটি সামরিক মূল্যায়নে থাড ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়টের প্রায় অর্ধেক ব্যবহারের দাবি। দুই হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকায় প্রকৃত সংখ্যা এখনও অস্পষ্ট।
কয়েক জন জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ব্যক্তিগত আলোচনায় বর্তমান মজুতকে ‘বিপজ্জনকভাবে নিচু’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে সরকারি পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অনুপস্থিতিতে ‘থাডের ৮০ শতাংশ শেষ’–নিশ্চিত তথ্য নয়, বরং একটি সামরিক মূল্যায়নের দাবি।
প্যাক-৩ উৎপাদন তিন গুণের পরিকল্পনা
এই পরিস্থিতিতেই নর্থরপ গ্রুম্যান ও লকহিড মার্টিনের সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্যাক-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৬০০টি থেকে বাড়িয়ে দুই হাজারে নেওয়া হবে। তবে এটি বর্তমান উৎপাদনের সংখ্যা নয়, কয়েক বছরের মধ্যে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা।
কঠিন জ্বালানির রকেট ইঞ্জিনের জন্য দ্বিতীয় সরবরাহকারী তৈরির পরিকল্পনাও চুক্তির অংশ। একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা কমানো, উৎপাদনে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমানোই এর উদ্দেশ্য।
থাড উৎপাদন চার গুণের লক্ষ্য
থাড ব্যবস্থা মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে বছরে প্রায় ৯৬টি থাড প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এই সংখ্যা বাড়িয়ে বছরে ৪০০টিতে নেওয়ার পরিকল্পনা পেন্টাগনের।
নতুন চুক্তির আওতায় ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যবর্তী কাঠামো, বহিরাবরণ, সামনের সুরক্ষা-ঢাকনা এবং উৎক্ষেপণব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরি করবে নর্থরপ গ্রুম্যান।
তবে উৎপাদনক্ষমতা চার গুণ করার ঘোষণা মানেই এখনই চার গুণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন নয়। নতুন কারখানা, যন্ত্রপাতি, কর্মী, কাঁচামাল, পরীক্ষা ও মান যাচাইয়ের পুরো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
ঘাটতির দাবি অস্বীকার ট্রাম্পের
মার্কিন অস্ত্রভান্ডার বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে যাওয়ার দাবি মানতে নারাজ হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের লিখিত বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি গোলাবারুদ রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় মজুতও যথেষ্ট।
মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি গোলাবারুদ উৎপাদন করছে বলেও তাঁর দাবি।
একই দিন পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেলের বক্তব্য, প্রেসিডেন্টের পছন্দের সময় ও স্থানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
তবে প্যাট্রিয়ট, থাড, টোমাহক, অ্যাটাকমস বা প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের বর্তমান মজুতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন।
উপসাগরীয় মিত্রদের উদ্বেগ
মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন হামলার পর পাল্টা আঘাত এলে তেলক্ষেত্র, শোধনাগার, বন্দর, বিমানঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় পর্যাপ্ত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে কি না–মূল প্রশ্ন সেটিই।
কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, জুলাইয়ের শেষ দিকে ইরানের ভেতরে আরেকটি বড় হামলা না চালানোর সিদ্ধান্তে ক্ষয়িষ্ণু অস্ত্রভান্ডার নিয়ে সামরিক সতর্কবার্তার ভূমিকা ছিল।
তবে এক মার্কিন কর্মকর্তার পাল্টা বক্তব্য, অস্ত্রের স্বল্পতা নয়, উপসাগরীয় মিত্রদের রাজনৈতিক চাপই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। প্রকাশ্য নথির অভাবে উভয় দাবিই যাচাইয়ের বাইরে।
যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ইরান
ওয়াশিংটনের অস্ত্রভান্ডার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের ঘোষণা তেহরানের।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত আলজাজিরার প্রতিবেদনে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়ার দাবি, যুদ্ধবিরতির প্রতিটি মুহূর্তের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে ইরান।
ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ব্যবস্থা মেরামত, মজুত সরঞ্জাম বাহিনীতে যুক্ত করা, বিদেশ থেকে নতুন অস্ত্র সংগ্রহ এবং দেশের ভেতরে নতুন সামরিক ব্যবস্থা নির্মাণ–একসঙ্গে এই চার কর্মসূচি।
নতুন প্রজন্মের ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের দাবিও তাঁর। তবে ড্রোনের ধরন, সংখ্যা বা উৎপাদনস্থল সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য নেই।
ড্রোন উৎপাদন তিন গুণের দাবি
গত মাসে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ এবন-এ রেজার দাবি, যুদ্ধের সময়ও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন এক দিনের জন্য বন্ধ হয়নি।
যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ড্রোন উৎপাদন এখন তিন গুণ বলেও তাঁর ভাষ্য। তবে উৎপাদনের কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি তেহরান।
জুলাইয়ের শেষ দিকে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বির দাবি, যুদ্ধবিরতির সময় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের হার বাড়িয়েছে ইরান। যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতায় ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতাও উন্নত হয়েছে।
তবে অস্ত্রভান্ডারের আকার, সামরিক কারখানার ক্ষয়ক্ষতি বা প্রকৃত উৎপাদনের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো হিসাব নেই।
ভূগর্ভস্থ ‘ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নগরী’
আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হোসেইন কানানি মোগাদ্দামের দাবি, ইরানের ভূগর্ভস্থ ‘ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নগরী’গুলোতে এখনও অস্ত্রের মজুত রয়েছে।
এসব স্থাপনার নতুন অংশ ধীরে ধীরে সামরিক অভিযানে যুক্ত হচ্ছে বলেও তাঁর ভাষ্য। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা গোপন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ উৎপাদনের দাবিও একই সূত্রের।
তবে সাক্ষাৎকারটি কবে ও কোথায় নেওয়া হয়েছে, আলজাজিরার প্রতিবেদনে তার উল্লেখ নেই। ভূগর্ভস্থ মজুতের পরিমাণও স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের বাইরে।
সময় কার পক্ষে
এক দিকে ক্ষয়িষ্ণু দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ভান্ডার পূরণে মার্কিন কারখানাগুলোর ওপর প্রবল চাপ। অন্য দিকে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের তোড়জোড় ইরানের।
প্যাক-৩ উৎপাদনক্ষমতা তিন গুণ এবং থাড উৎপাদনক্ষমতা চার গুণ করার পরিকল্পনায় মার্কিন উদ্বেগের স্পষ্ট ছাপ। তবে নতুন কারখানা, দক্ষ কর্মী, কাঁচামাল, পরীক্ষা ও মান যাচাই–সব মিলিয়ে দীর্ঘ পথ।
ইরানের ক্ষেত্রেও একই অনিশ্চয়তা। সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের দাবি থাকলেও প্রকৃত মজুত, উৎপাদন ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও অপ্রকাশিত।
শেষ পর্যন্ত এই অস্ত্র-দৌড় নতুন যুদ্ধ ঠেকাবে, না কি আরও বড় সংঘাতের প্রস্তুতি হয়ে উঠবে–উত্তর এখনও অনিশ্চিত।