প্রায় দুই দশক পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ফিরে নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়েছেন বাংলাদেশি নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তিনি যখনই কলকাতায় আসতে চাইবেন, তখনই রাজ্য সরকার তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
শনিবার (১ আগস্ট) কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত একটি কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিন ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, একবার নয়, আপনি যখনই মনে করবেন, বারবার আসবেন। নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আমার।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে সংবিধান, গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। এখানে সবাই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে এবং যে কেউ রাজ্যে আসতে পারেন।
পরে রোববার (২ আগস্ট) কলকাতার রবীন্দ্র সদন সংলগ্ন বাংলা একাডেমিতে সাংবাদিক সম্মেলনে তসলিমা বলেন, আমাকে কেউ বাংলাদেশে ফিরতে দেয়নি। শেখ হাসিনাও ফিরতে দেননি, খালেদা জিয়াও ফিরতে দেননি। যারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, কেউই আমাকে দেশে ফেরার সুযোগ দেননি। তাই শেখ হাসিনার ফেরা সম্ভব হলেও আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়।
কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তসলিমা জানান, এখনও সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। একসময় কলকাতায় ভাড়া বাড়িতে থাকতাম। ভবিষ্যতে এখানেই স্থায়ী হবো কিনা, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আগামী কলকাতা বইমেলায় উপস্থিত থাকার ইচ্ছার কথা জানান তিনি।
২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। সে সময় রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বইটি নিষিদ্ধ করা হয় এবং তসলিমাকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে হয়।
পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ ১৫ বছর তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকলেও তসলিমার পশ্চিমবঙ্গে ফেরা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি আবার কলকাতা সফরের সুযোগ পান।
শনিবারের অনুষ্ঠানে বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ধমক, ভয় দেখানো বা আটকে দেওয়ার রাজনীতি এখন অতীত। পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে স্বাগত। আপনি একজন জনপ্রিয় লেখক, আপনার পাঠকসংখ্যা অনেক। রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি আপনি নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন।
এদিকে এক সাক্ষাৎকারে তসলিমা নাসরিন বলেন, কলকাতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।