Image description

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার একরেরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় স্পোকেন এলাকায় জরুরি নির্দেশনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন হতাহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটে নি বলে জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর বব ফার্গুসন।

ওয়াশিংটনের পাবলিক ল্যান্ডস কমিশনার ডেভ আপদিগ্রোভ ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, রাজ্যজুড়ে এক ডজনেরও বেশি আগুন নেভাতে প্রায় চার হাজার জন লোক কাজ করছেন।

পূর্ব ওয়াশিংটনের প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বাসিন্দার শহর স্পোকেন ‘ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার’ এর মুখোমুখি। ওয়াশিংটন স্টেট ফরেস্টার জর্জ গিসলার বলেছেন, এই আগুন প্রায় ৩ হাজার একর এলাকায় সক্রিয় এবং ৪ হাজার স্ট্রাকচারের জন্য হুমকিস্বরূপ।

মেয়র লিসা ব্রাউন বলেছেন, স্পোকেনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জল পুনরুদ্ধার কেন্দ্র, বর্জ্য-শক্তি প্ল্যান্ট এবং ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স হাসপাতাল।

স্পোকেনে প্রায় ২০০ বাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। ব্রাউন বললেন, ‘এগুলো শহরের বড় এলাকা, তাই আমি ধরে নিচ্ছি সংখ্যা আরও বাড়বে।’

ওয়াশিংটন স্টেট ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের স্টেসি ম্যাকলেইন জানিয়েছেন, পূর্ব ওয়াশিংটনে সেবা দেওয়া ইউটিলিটি কোম্পানি অ্যাভিস্তা জানিয়েছে, ৬০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন রয়েছেন।

ফার্গুসন বলেছেন, আমাদের রাজ্য একাধিক দাবানলের কারণে খুবই গুরুতর পরিস্থিতির মুখোমুখি। তিনি উল্লেখ করেন, সপ্তাহান্তে প্রবল বাতাস ও উচ্চ তাপমাত্রা আগুন নেভানো আরও কঠিন করে তুলবে।

এই গ্রীষ্মে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের প্রায় সাড়ে চার লাখ একর এলাকা পুড়েছে। গত মাসে বজ্রপাতের কারণে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক আগুনের ঘটনা ঘটেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য এলাকাতেও দাবানল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্পোকেনের আগুন ওয়াশিংটনের পাঁচটি ‘মেজর কমপ্লেক্স ফায়ার’এর একটি। সবচেয়ে বড়টি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাইজার ক্যানিয়ন ফায়ার, যা প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার একর এলাকাজুড়ে রয়েছে। ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল গার্ড ছাড়াও এক ডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যের অগ্নিনির্বাপকরা সাহায্য করছেন।

ওয়াশিংটন ন্যাশনাল গার্ডের অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল জেন্ট ওয়েলশ বললেন, ‘সেখানে যা দেখছি তা একটা ট্র্যাজেডি। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর এবং সকালে উদয় হলে আমরা হতবাক হয়ে যাব কিছু দৃশ্য দেখে।’