Image description

মরক্কো সীমান্তঘেঁষা স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় সাম্প্রতিক অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে স্পেন। দেশটির সরকার মরক্কো-সেউতা উপকূলে প্রায় ৫০০ মিটার (প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট) দীর্ঘ একটি ভাসমান প্রতিবন্ধক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞাপন

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্ফীতযোগ্য এই ভাসমান প্রতিবন্ধক পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্ত নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে নৌবাহিনীর নোঙর করা বয়ার একটি অতিরিক্ত সারিও স্থাপন করা হবে।

 

সাম্প্রতিক অভিবাসী প্রবাহের পর অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ইতোমধ্যে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে যারা এখনো সেউতায় অবস্থান করছেন, তাদের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেন। এর মধ্যে অন্তত ৪৮ হাজার ৩০০ জনকে শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়া আরও কয়েক শ মানুষ স্বেচ্ছায় সেউতা ত্যাগ করেন।

 

সেউতায় নিযুক্ত স্পেন সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে শহরটিতে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

এ ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০টির বেশি সদস্যদেশ ইউরোপীয় কমিশনের কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কমিশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তার সরকারের অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছেন।

 

এদিকে সেউতার বিভিন্ন সৈকতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শত শত অভিবাসীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তাদের অনেকেই দাবি করেছেন, তারা মরক্কোর নাগরিক নন, তাই তাদের সেখানে ফেরত পাঠানো উচিত নয়। কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, বৃহস্পতিবারের পর থেকে তারা কোনো খাবার পাননি।

 

সুদান থেকে পালিয়ে আসা ২৪ বছর বয়সী অভিবাসী কামাল ওমর জানান, ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধের কারণে তিনি নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। গত বছর মরক্কোতে পৌঁছানোর পর এবার সেউতায় এসেছেন। তার ভাষায়, “আমি মরক্কোতে ফিরতে চাই না। আমাদের সুরক্ষা দিন।”

 

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, সমুদ্রে ভাসমান বয়া বসিয়ে সীমান্তে একটি দৃশ্যমান প্রতিবন্ধক তৈরি করা হবে। তার দাবি, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে মানব পাচারকারীরা অভিবাসীদের সীমান্ত অতিক্রমে উৎসাহিত করেছে।

 

তবে স্পেনের এ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকারবিষয়ক কর্মকর্তা জুডিথ সান্ডারল্যান্ড বলেন, কেউ যদি সাঁতরে এ প্রতিবন্ধক অতিক্রমের চেষ্টা করেন, তাহলে নিরাপত্তা বাহিনী কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি ২০১৪ সালে সেউতায় অভিবাসীদের লক্ষ্য করে রাবারের গুলি ছোড়ার ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেন।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস