বি.টেক-এ প্রথম শ্রেণিতে স্বর্ণপদক বিজয়ী ছিলেন। কিন্তু অন্তত ৫০ বার চাকরির চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। এতে হতাশ হয়ে শেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন ২৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরের ঘটনা। নিজের বাড়িতেই আত্মহত্যা করেন তিনি।
আত্মহননের আগে একটি চিরকুট রেখে গেছেন। যেখানে বার বার চেষ্টা করেও সরকারি চাকরি পেতে ব্যর্থ হওয়ায় বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন আনন্দ কুমার নামে ওই যুবক। ২০২৪ সালে পিএসআইটি নামে একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বি.টেক (ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) পরীক্ষায় প্রথম স্থান এবং উত্তরপ্রদেশে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি।
২০২৪ সালের ১৩ অগস্ট কলেজের অনুষ্ঠানে আনন্দকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। উত্তর প্রদেশের গভর্নর আনন্দীবেন প্যাটেলের হাত থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, গোবিন্দ নগরের গুজাইনি এলাকায় অবস্থিত তার তিন তলা বাড়ির একটি ঘরে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় মরদেহ।
দরজায় বার বার ধাক্কা দিয়েও সাড়া না পেয়ে পরিবারের গৃহসহায়িকা প্রতিবেশী ও পুলিশকে খবর দিলে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সেই সময়ে আনন্দের পরিবার দাদার বিয়ে ঠিক করতে বিহারে গিয়েছিল। পুলিশ দরজা ভেঙে আনন্দের দেহ এবং হাতে লেখা পাঁচ লাইনের একটি নোট উদ্ধার করে।
চিরকুটটিতে লেখা ছিল, ‘দুঃখিত বাবা, আমি প্রায় ৫০ বার সরকারি চাকরির চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও।’ আনন্দের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
আনন্দের বাবা রাজকুমার লোহিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এবং বিহারের বক্সারের বাসিন্দা। তিনি জানান, তার ছেলে স্নাতক শেষ করার পরে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মন দেওয়ার আগে পাওয়ার গ্রিডে শিক্ষানবিশি করেছিলেন।
রাজকুমার বলেন, ‘ও রেল, এসএসসি, ব্যাঙ্ক ও শিক্ষা দফতরের নিয়োগ পরীক্ষায় বসতো, কিন্তু সফল হতে পারেনি। কয়েক মাস ধরে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিল।’ খবর: টাইমস অব ইন্ডিয়া, আরও আনন্দ।