দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ শরিয়াহভিত্তিক বা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পাকিস্তান, যা সম্পন্ন হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ সালের মধ্যে। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ২০২২ সালে পাকিস্তানের ফেডারেল শরিয়াহ কোর্টের একটি রায়, যেখানে সরকারকে সুদভিত্তিক (রিবা) আর্থিক ব্যবস্থা ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। পাকিস্তানের দেশীয় ব্যাংকগুলোকে পুরোপুরি ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তর করলেও দেশটিতে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোকে সুদভিত্তিক প্রচলিত ব্যাংকিং সেবা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং সেবাও দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করবে।
সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০২৮ সালের পর দেশীয় ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ ও অর্থায়ন সম্পূর্ণ শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।
সরকারও ধীরে ধীরে সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে সুকুকসহ অন্যান্য ইসলামী আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করবে। এই ক্ষেত্রে বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে।
দেশীয় ব্যাংকগুলোর সামনে চ্যালেঞ্জ : পাকিস্তানের স্থানীয় ব্যাংকগুলোর জন্য এই রূপান্তর ব্যয়বহুল ও জটিল হবে।
ব্যাংকিং খাতের উদ্বেগ : রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ব্যাংকিং খাতের কিছু অংশ মনে করছে এই নীতির ফলে দেশীয় ব্যাংকগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। কারণ তারা আর প্রচলিত ব্যাংকিং সেবা দিতে পারবে না। বিদেশি ব্যাংকগুলো একই সঙ্গে প্রচলিত ও ইসলামী উভয় ধরনের সেবা দিতে পারবে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে বিদেশি ব্যাংকের দিকেই বেশি ঝুঁকতে পারে।
সরকারের অবস্থান : দেশটির সরকার বলছে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য এই ব্যতিক্রম কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং এটি একটি বাস্তবসম্মত ও অর্থনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এর লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক অর্থায়নে বিঘ্ন না ঘটানো। বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। সরকারের মতে, ধাপে ধাপে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে এরই মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিং দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি উলেখযোগ্য অংশ বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আওতায় এসেছে এবং সরকার বিভিন্ন বড় অর্থায়ন প্রকল্পেও ইসলামী আর্থিক উপকরণ ব্যবহার শুরু করেছে।