যুদ্ধ থেকে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ইরানে সৌদি আরবের কোনো প্রতিনিধির সফর অনিশ্চিত ছিল। সৌদি আরবও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয় নি। যার ফলে ধারণা ছিল হয়তো খামেনির জানাজায় অংশ নেবে না সৌদি আরবের কোনো প্রতিনিধি।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স আজ সন্ধ্যায় জানিয়েছে ভিন্ন তথ্য। রয়টার্স বলছে, সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল খেরেইজি ও তার প্রতিনিধিদল ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি জানিয়েছেন শেষ শ্রদ্ধা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন। ওই যুদ্ধের জেরে ইরান উপসাগরীয় যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোতে হামলা চালায়, যার মধ্যে সৌদি আরবও ছিল। এই সংঘাতে প্রধানত ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
মাত্র ১৪ মাস আগে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজায় অংশ নিতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান নিজে তেহরান সফর করেছিলেন। বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া সৌদি-ইরান সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পর সেটিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবের সরকারি অবস্থান ছিল সতর্ক। তারা মূলত সৌদি ভূখণ্ডে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিন্দা করেছে, কিন্তু খামেনিকে হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। ১ মার্চ সৌদি মন্ত্রিসভার একমাত্র সংশ্লিষ্ট বিবৃতিতে ‘ইরানের বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ আগ্রাসন ও সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানানো হয়, যা ইরানের পাল্টা হামলাকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে ব্যক্তিগত পর্যায়ের তথ্য বিষয়টিকে আরও জটিল করেছিল। ওয়াইনেট নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খামেনির বিরুদ্ধে হামলা চালাতে উৎসাহিত করেছিলেন। তবে একই সময়ে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করেছিলেন, সৌদি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড এ অভিযানে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।