Image description

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী নব্য-রক্ষণশীল চিন্তাবিদ এবং দীর্ঘদিনের ইসরাইলপন্থি যুদ্ধবাজ রবার্ট কাগান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র “পূর্ণ পরাজয়ের” দিকে এগোচ্ছে। তাঁর মতে, এই যুদ্ধ এমন এক ক্ষতির জন্ম দিয়েছে যা আর পূরণ করা সম্ভব নয় এবং এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক অবস্থানকে দুর্বল করবে।

 

‘দি আটলান্টিক’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে কাগান বলেন, “আগের অবস্থায় আর ফেরা যাবে না, এমন কোনো চূড়ান্ত আমেরিকান বিজয়ও আসবে না যা এই ক্ষতিকে মুছে ফেলতে পারবে।” তিনি মনে করেন, এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, কৌশলগতভাবেও যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে।

 

তিনি সেই নীতি-নির্ধারণী ব্যবস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডও ছিলেন, যিনি কট্টর নব্য-রক্ষণশীল ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন। বছরের পর বছর ধরে, কাগান মার্কিন হস্তক্ষেপবাদের পক্ষে ছিলেন—যা বর্তমান যুদ্ধ সম্পর্কে তার কঠোর সতর্কবাণীকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

কাগান তার বিশ্লেষণে বলেন, হরমুজ প্রণালীর উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব ইরানকে আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত করছে।

তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ আমেরিকার শক্তি প্রদর্শন করেনি, বরং এমন একটি আমেরিকাকে উন্মোচিত করেছে, যা অবিশ্বস্ত এবং যা শুরু করেছে তা শেষ করতে অক্ষম।” কাগানের মতে, এই পরিস্থিতির ফলে বিশ্বজুড়ে মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে নির্ধারণ করবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন সীমিত বিকল্প রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন কাগান। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করা এবং ইরানের ওপর চাপ ধরে রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের দরকষাকষির ক্ষমতা অনেকটাই ক্ষয় হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বড় সামরিক সংকটগুলোর সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, পার্ল হারবারে জাপানি আক্রমণ এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো ঘটনাগুলোর পর যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিল, কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

কাগান আরও বলেন, “সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় শুধু সম্ভবই নয়, বরং তা ঘটার সম্ভাবনাই বেশি।” তাঁর মতে, ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না, কারণ এটি তেহরানের অন্যতম প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার।

পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাগান সতর্ক করে বলেন, এই যুদ্ধ ইসরাইলের জন্যও “অত্যন্ত বিপর্যয়কর” হতে পারে। তাঁর ভাষায়, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রভাব কমে গিয়ে তা ইরান ও তাদের মিত্রদের দিকে সরে যেতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই