বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা ঘিরে নানা আলোচনা চলছে অনেক দিন ধরেই। নিরাপত্তা, আইনি জটিলতা, ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনার পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও যুক্ত হয়েছে সেই আলোচনায়। কেউ কেউ মনে করছিলেন, সেই সময় সাকিব দেশে ফিরলে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আবারও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারত। তবে এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।
সাঈদ জামানের ইউটিউব চ্যানেল ‘সিম্পলি সাঈদ’-এর পডকাস্টে সাকিবকে জিজ্ঞেস করা হয়, দেশে ফিরলে তার রাজনৈতিক দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারত, এমন আলোচনা তিনি শুনেছেন কি না। তাকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব বা কোনো ধরনের কাউন্টার আপরাইজিংয়ের ধারণা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে সাকিব বলেন, ‘আমার কাছে এরকম কখনো মনে হয়নি। আসলে আমি এত ডিপলি কখনো চিন্তা করিনি যে এরকমও হতে পারে।’
সাকিবের ভাষায়, তার কাছে দেশে ফেরার বিষয়টি ছিল অনেক বেশি সাধারণ ও ব্যক্তিগত। তিনি ভেবেছিলেন, দেশে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চালাবেন এবং একই সঙ্গে ক্রিকেটও চালিয়ে যেতে পারবেন।
সাকিব বলেন, ‘মানুষ চিন্তা করে। আমার কাছে মনে হয়েছিল যে প্রসেসটা খুবই সিম্পল এবং নরমাল। আমি দেশে যাচ্ছি, আইনি প্রক্রিয়াগুলো হচ্ছে, বাট আমি আমার খেলাটা চালিয়ে যেতে পারব।’
সাকিব মনে করেন, দেশে ফেরা নিয়ে নানা রকম ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যায়। কিন্তু তিনি বিষয়টিকে জটিল করে দেখতে চাননি। তার বক্তব্যে পরিষ্কার, রাজনৈতিকভাবে কাউকে সংগঠিত করা বা কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করার পরিকল্পনা তার নেই।
তিনি বলেন, ‘হতে তো পারে অনেক কিছুই। চিন্তা করলে তো আসলে চিন্তা শেষ হবে না। কিন্তু আমি সিম্পল রাখতে চাই।’
সাকিব আরও জানান, তার মনে হয়নি দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতো। তার ভাষায়, ‘আমার কাছে মনে হয়নি যে এরকম কোনো সিচুয়েশন ক্রিয়েট হবে কিংবা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাকিব দেশে ফিরতে পারেননি। তিনি নিজেই বলেছেন, দেশে ফেরা নিয়ে একাধিকবার আশাবাদী হয়েও শেষ পর্যন্ত ফেরা হয়নি। এমনকি একবার মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল তাকে। সাকিবের বক্তব্য অনুযায়ী, তখন তাকে জানানো হয়েছিল, দেশে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হতে পারে।
তবে পডকাস্টে আওয়ামী লীগকে ঘিরে তার সম্ভাব্য ভূমিকার গুঞ্জন তিনি সরাসরি গুরুত্ব দেননি। বরং পুরো প্রসঙ্গটিকে নিজের দেশে ফেরা, নিরাপত্তা, আইনি প্রক্রিয়া ও ক্রিকেটে ফেরার বাস্তবতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছেন।
সাকিবের বক্তব্য তাই রাজনৈতিক ব্যাখ্যার চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত অবস্থান। তিনি বলতে চেয়েছেন, তার দেশে ফিরতে চাওয়া কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ ছিল না। সেটি ছিল নিজের জন্মভূমিতে ফেরা, আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করা এবং সম্ভব হলে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।