সামরিক লক্ষ্যবস্তু না হওয়া সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে ইরানের শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হোসেন সিমাই সাররাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএর বরাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
হোসেন সিমাই সাররাফ অভিযোগ করেন, কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু না হওয়া সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য অপরিহার্য অবকাঠামো এবং অসামরিক স্থানগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়া।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তেহরানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু ভবন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইসরায়েল এই হামলাগুলোর সপক্ষে দাবি করেছে যে এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, তাদের বাহিনী কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় না।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরান সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আঘাত হানার পাল্টা জবাব হিসেবে তারাও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।