Image description

ঢালিউডের উদীয়মান অভিনেত্রী ফারিন খান সম্প্রতি এক ভয়াবহ ও ট্রমাটিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। জামালপুর যাওয়ার পথে মাঝরাতে একটি পেট্রোল পাম্পের ওয়াশরুমে দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হতে যাচ্ছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণার কথা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।

ফারিন জানান, গত ১৩ তারিখ আনুমানিক রাত ৩টা ১৫ মিনিটে জামালপুর যাওয়ার পথে বাধ্য হয়েই একটি পেট্রোল পাম্পের ওয়াশরুমে ঢোকেন তিনি। সেখানে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার মনে হয় পেছনে কেউ দাড়িয়ে আছে। তাকিয়ে দেখেন, ভেন্টিলেটর দিয়ে দুটো হাত ঠিক তার গলার কাছে চলে এসেছে। ফারিন লেখেন, ‘হয়তো আমি সময়মতো চিৎকার না দিলে আমাকে মেরে ফেলে সব লুটপাট করে তারপর ধর্ষণের চেষ্টা করত।’
তবে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে চিৎকার করে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসেন ফারিন। তার চিৎকার শুনে ড্রাইভার এগিয়ে গেলে লোকটা পালিয়ে যায়। ড্রাইভার জানান, লোকটা হাতে অনেকগুলো ডিমের খোসা নিয়ে ওয়াশরুমের পেছনে যাচ্ছিল। ময়লা ফেলতে যাচ্ছে ভেবে ড্রাইভার প্রথমে কিছু বলেননি।

ফারিন আরও জানান, বাইরে সাহসিকতা দেখালেও ভেতরে ভেতরে তিনি কতটা ভয় পেয়েছিলেন, তা শুধু তিনিই জানেন। পরের দিন শুটিং ইউনিটের অনেকের সাথে বিষয়টি শেয়ারও করেন। একে নিজের জীবনের অন্যতম বিশ্রী অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে ফারিন বলেন, ‘মানসিকভাবে আমি যে কী পরিমাণ কষ্ট পেয়েছি, কতটা খারাপ লাগা কাজ করেছে এবং কী পরিমাণ চাপা যন্ত্রণা অনুভব করেছি, সেটা শুধু আমিই জানি।’

আমাদের সমাজে কর্মজীবী নারীদের প্রতিদিনের লড়াই ও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরে এই অভিনেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা যে সব মেয়েরা বাইরে কাজ করি, আমরা জানি কত কত এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। তবে এই দেশে সত্যিই মেয়েরা নিরাপদ না।’

পোশাক নিয়ে মানুষের সংকীর্ণ মানসিকতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করে ফারিন আরও লেখেন, ‘যে দেশে আমাকে আমার পোশাক দিয়ে বিচার করা হয়, সে দেশে আসলে ধর্ষণের মতো আচরণ শুধুই মেয়েদের দোষ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কোনো বিচার কখনো হয়নি, যেটার ভয়ে এসব বন্ধ হবে।’
পোস্টের শেষে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে একটি বিশেষ দ্রষ্টব্য যোগ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, এই পোস্টে অনেকেই হয়তো তার পোশাক বা কাজ নিয়ে দোষ দিয়ে মন্তব্য করবে, অথচ এই দেশে মেয়েরা প্রতিনিয়তই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।

ফারিনের এই স্ট্যাটাসটি নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে পুনরায় সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে।