ছাত্র রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা— এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে তাদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।
বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক শহীদি দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মনজুরুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ক্যাম্পাসের নানা কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছিল। সে সময় ছাত্রশিবিরকে বারবার প্রশ্ন করা হয়েছিল—ছাত্র রাজনীতিতে তারা কী ধরনের সংস্কার আনতে চায়। তিনি দাবি করেন, ছাত্রশিবিরকে যদি উন্মুক্তভাবে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং অতীতের স্বৈরাচারী রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে না আসে, তবে ছাত্র রাজনীতিতে আলাদা কোনো সংস্কারের প্রয়োজন হবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ছাত্রশিবির সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার অসংগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এতটাই অসংগতি রয়েছে যে, ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত না থাকলেও বছরের পর বছর একই শ্রেণিতে থেকে যাওয়া সম্ভব।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগের সময় থেকে একজন ব্যক্তি এখনো একটি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, যা শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতারই প্রমাণ।
মনজুরুল ইসলাম আরও বলেন, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আগের মতো রাজনৈতিক চরিত্র ফিরে আসছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হওয়ায় ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পেশিশক্তির প্রয়োগ শিক্ষার্থীদের মনোভাব নষ্ট করছে।
তিনি বলেন, অতীতে যারা পেশিশক্তি ব্যবহার করে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করেছে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অনেকেই দেশান্তরিত হয়েছে।