সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, “বগুড়া আবাসিক হোটেল থেকে অত্যাধুনিক স্নাইপার রাইফেল উদ্ধার, সঙ্গে আটক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক। স্নাইপারদের প্রধান সমন্বয়ক ব্রিগ জেন সাখাওয়াত... ঠিক শুনেছেন।”
দেখুন এখানে, এখানে, এবং এখানে।
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়।
যাচাইয়ে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ ও রিভার্স ইমেজ সার্চ করে স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়া যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আজকের বগুড়া–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিবি পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়ার মাটিডালি এলাকার ‘ক্যাসেল সোয়াদ’ নামে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় পাখি শিকারে ব্যবহৃত একটি এয়ার গান উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি কোনো অত্যাধুনিক রাইফেল নয়; এটি পাখি শিকারে ব্যবহৃত এয়ার গান।
নর্থএক্সপ্রেস অনলাইন নামে আরেকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রকে এয়ার গান হিসেবে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আরও যাচাইয়ে দৈনিক করতোয়ার বগুড়া স্টাফ রিপোর্টার রাহাত আহমেদ রিটুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটি প্রাণঘাতী অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত না হওয়ায় এ ঘটনায় কোনো মামলা করা হয়নি এবং আটক ব্যক্তিদের পরিচয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
অর্থাৎ, ভাইরাল ভিডিওতে যেভাবে অত্যাধুনিক রাইফেল উদ্ধার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক আটকের দাবি করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবিটি বিভ্রান্তিকর।