জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ৩০ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলার দুই আসামি হলেন- সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারপতি সফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ আদেশ দেয়। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে সকালে দুই আসামিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী তার মক্কলদের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রসিকিউশন তার আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে তার পক্ষে যথাযত প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। এজন্য তিনি আসামিদের অব্যাহতির আবেদন জানান। এরপর প্রসিকিউশন বক্তব্যে তুলে ধরে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল বলেন, আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ দাখিল করেছি। বিচারের সময় আমরা অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হবো। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এই বিষয়ে আদেশের জন্য ৩০ মার্চ দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
গত ২ মার্চ প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম, মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে নানা উসকানি দেন কামরুল ও মেনন। তারা সরকারের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচণা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে আন্দোলনকারীদের ওপর মরণাস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালানো হয়। জুলাইয়ে হত্যাকাণ্ডের মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির দায় আনা হয়।
শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান চিফ প্রসিকিউটর। এরপর আসামিদের পক্ষে বক্তব্য তুলে সময়ের আরজি জানান আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। পরে আগামী ১১ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই বছরের ১৮ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হন কামরুল। এরপর থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন তারা।