ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে গভীর রাতে রোড ডিভাইডারে এক ব্যক্তির নামাজ পড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে ধারণ করা ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভাইরাল হওয়া ওই ব্যক্তির নাম খোরশেদুল ইসলাম। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। পরিবারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে, তবে কোনো ছেলে সন্তান নেই। ছোট মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় এসেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, তার ছোট মেয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করেন এবং সন্তানসম্ভবা ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ডেলিভারির সময় শিশুটি মারা যায়। পরে আজিমপুর কবরস্থানে শিশুটিকে দাফন করা হয়েছে।
রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রোড ডিভাইডারে নামাজ পড়া শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দ আব্দুর রহমান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোফাচ্ছের এইচ ইমরানের সঙ্গে কথা বলেন খোরশেদুল ইসলাম।
তাকে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছোট মেয়েকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসেছি।আশপাশে কোনো নামাজের জায়গা না পেয়ে রোড ডিভাইডারেই নামাজে দাঁড়িয়ে যাই।’
আব্দুর রহমান ও ইমরান বলেন, খোরশেদুল ইসলাম তার ধর্মীয় জীবন নিয়েও তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, এক সময় তিনি তাবলিগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে এখন আর তাদের সঙ্গে নেই। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে এলে কেউ তেমন কথা বলে না। আমি এখন একা আছি। অনেকক্ষণ ধরে নামাজ পড়ার জায়গা খুঁজছিলাম। কিন্তু কোনো মসজিদ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত রোড ডিভাইডারেই নামাজ পড়ি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসার বিষয়ে খোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এদিকে এমনিতেই এসেছি। একটু ঘুরে আবার হাসপাতালে চলে যাব।’ কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি কোনো কাজ করেন না। পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরিতে যুক্ত হননি।