'পুঁজি হলো সততা, ন্যায়-ইনসাফ-জনতা'—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী এক 'লাইভ ক্লাস' নিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি সংসদীয় এলাকায় বরাদ্দকৃত সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেন। ডিজিটাল বোর্ডে স্লাইড প্রদর্শন করে ধারাবাহিকভাবে দেওয়া এই লাইভটি অনেকটা ক্লাসরুমের পাঠদানের মতো হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই লাইভ ক্লাসে হাসনাত আব্দুল্লাহ দেবিদ্বার উপজেলায় চলমান সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ওয়ার্ডভিত্তিক বর্ণনা দেন। এছাড়া ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যে 'কমিশনমুক্ত ব্যবসার নিশ্চয়তা' দিয়ে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার আহ্বান জানান তিনি।
লাইভের শেষ পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গুরুত্বারোপ করেন।
এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তিনি 'জবাবদিহিতা' নামক একটি বিশেষ ফেসবুক পেজ খোলার ঘোষণা দিয়ে জানান, 'এই পেজ থেকে এখন থেকে তার আসনের সকল কাজের নিয়মিত আপডেট দেওয়া হবে এবং প্রতিটি উন্নয়ন কাজের হিসাব পাই টু পাই বুঝিয়ে দেওয়া হবে।'
রাজনীতিতে আসার আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষকতা ও কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থাতেই তিনি 'স্কুল অব এক্সিলেন্স' নামক প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও সেই চেনা রূপে ফিরে আসা প্রসঙ্গে জানা গেছে, তিনি মূলত এই পদ্ধতিকে জনগণের সামনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি বিশেষ মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। লাইভে তিনি রাস্তাঘাট নির্মাণসহ মাঠ পর্যায়ে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সম্যক ধারণা দেন এবং এলাকার মানুষের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়েও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্ট মহলে একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি জনগণের সামনে এসে এভাবে কাজের হিসাব দেওয়া এবং একইসঙ্গে শিক্ষকতার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। হাসনাত আব্দুল্লাহর এই 'লাইভ ক্লাস' ও জবাবদিহিতার উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে এবং প্রচুর মানুষ তা শেয়ার করছেন।