ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরাইলের যুদ্ধে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোতে বাস করা প্রায় ৬২ মিলিয়ন মানুষ আটকা পড়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বিদেশি কর্মী।
অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার জন্য পরিচিত বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন বিদেশি বসবাস করে। এদের বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা।
সৌদি আরব ও ওমান ছাড়া জিসিসির বাকি চারটি দেশে বসবাসকারী জনসংখ্যার বড় অংশই বিদেশি কর্মী। জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে বহু প্রজন্ম ধরে বিদেশি কর্মীরা তাদের দেশের কর্মশক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে আসছেন। এর মধ্যে শ্রমিক, নির্মাণকর্মী, গৃহকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী অন্তর্ভুক্ত। এসব কর্মী উপসাগরীয় দেশগুলোর আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নিজের দেশ না হলেও লাখো বিদেশি উপসাগরীয় অঞ্চলকে তাদের বাড়ি হিসেবেই মনে করেন। এছাড়া ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, বিমান চলাচল, চিকিৎসা এবং গণমাধ্যমের মতো শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীরাও কাজ করে আসছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা গ্লোবাল মিডিয়া ইনসাইটের তথ্য অনুযায়ী, জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশে বসবাসরত বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ১০টি জনগোষ্ঠী এসেছে নিচের দেশগুলো থেকে। এর মধ্যে ভারত শীর্ষে রয়েছে। ভারতের ৯১ লাখ, বাংলাদেশের ৫০ লাখ, পাকিস্তানের ৪৯ লাখ, মিসরের ৩৩ লাখ, ফিলিপাইনের ২২ লাখ, ইয়েমেনের ২২ লাখ, সুদানের ১১ লাখ, নেপালের ১২ লাখ, সিরিয়ার ছয় লাখ ৯৪ হাজার এবং শ্রীলঙ্কার ছয় লাখ ৫০ হাজার।
জিসিসির ছয়টি দেশের মধ্যে সৌদি আরব সবচেয়ে বড়। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় তিন কোটি ৭০ লাখ। আর বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা এক কোটি ৬৪ লাখ। সৌদি আরবে বসবাসরত বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশি ২৫ লাখ ৯০ হাজার, ভারতীয় ২৩ লাখ ১০ হাজার,পাকিস্তানি ২২ লাখ ৩০ হাজার, ইয়েমেনি ২২ লাখ ১০ হাজার, মিসরীয় ১৮ লাখ এবং সুদানীয় ১০ লাখ।
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের পর সবচেয়ে বড় দেশ ইউনাইটেড আরব আমিরাত বা ইউএই। এখানে ভারতীয় ৪৩ লাখ ৬০ হাজার, পাকিস্তানি ১৯ লাখ, বাংলাদেশি আট লাখ ৪০ হাজার, ফিলিপাইনি সাত লাখ ৮০ হাজার, ইরানি পাঁচ লাখ ৪০ হাজার, মিসরীয় চার লাখ ৮০ হাজার।
প্রায় ৪৮ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে কুয়েত জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ। কুয়েতে বসবাসরত ভারতীয় ১০ লাখ, মিসরীয় সাত লাখ, বাংলাদেশি তিন লাখ ৫০ হাজার, ফিলিপাইনি থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার, পাকিস্তানি দুই লাখ এবং নেপালি এক লাখ ২০ হাজার।
ওমানের জনসংখ্যা প্রায় ৪৭ লাখ। এর মধ্যে ২৫ লাখ ওমানি নাগরিক, বাকি প্রায় ২০ লাখ ৫০ হাজার বিদেশি নাগরিক। ওমানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিক সাত লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৫, বাংলাদেশি সাত লাখ ১৮ হাজার ৮৫৬, পাকিস্তানি দুই লাখ ৬৮ হাজার ৮৬৮, মিসরীয় ৪৬ হাজার ৯৭০, ফিলিপাইনি ৪৫ হাজার ২১৩ এবং উগান্ডার নাগরিক ২০ হাজার ৮৮৬।
কাতারের ২৮ লাখ ৭০ হাজার বিদেশি কর্মী। দেশটিতে ভারত থেকে সাত লাখ, বাংলাদেশ থেকে চার লাখ, নেপাল থেকে চার লাখ, মিসর থেকে তিন লাখ, ফিলিপাইন থেকে দুই লাখ ৩৬ হাজার এবং পাকিস্তান এক লাখ ৮০ হাজার নাগরিক দেশটিতে বসবাস করে।
বাহরাইনে বসবাসরত বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ এসেছে যেসব দেশ থেকে- তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত। ভারতের তিন লাখ ৫০ হাজার, বাংলাদেশের এক লাখ ৫০ হাজার, পাকিস্তানের এক লাখ ২০ হাজার, ফিলিপাইনের ৮০ হাজার, মিসরের ৬০ হাজার এবং নেপালের ৩৫ হাজার।