নতুন যাত্রায় বাংলাদেশ। ২৪ এর জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পূর্ণতা পাচ্ছে আজ। শপথ নিচ্ছেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের নবনির্বাচিত এমপিরা। একইসঙ্গে যাত্রা শুরু হচ্ছে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক হচ্ছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তার নেতৃত্বেই শুরু হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার আলোকে দেশ গড়ার নবযাত্রা। ইতিমধ্যে তারেক রহমান নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। ৩১ দফা ঘোষণা ও জুলাই সনদের আলোকে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আজ সকাল ১০টায় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। পরে সংসদীয় দলের সভা হবে। এই সভায় সরকারি দলের নেতা নির্বাচন করা হবে। এর বাইরে বিরোধী দলও তাদের নেতা নির্বাচন করবে।
সরকারি দলের সংসদীয় দলের নেতা প্রেসিডেন্টের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা লাভের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। প্রেসিডেন্ট তখন তাকে নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন।
বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। শপথ পড়াবেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন।
নতুন মন্ত্রিসভায় দলের নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয় করা হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মন্ত্রিসভার আকার হচ্ছে ৩০। দলের সিনিয়র অনেক নেতা এবার মন্ত্রিসভায় থাকছেন না। তরুণ এবং দক্ষদের গুরুত্ব দেয়া হবে মন্ত্রিসভায়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জোটের শরিক দলের একাধিক নেতাও স্থান পেতে পারেন মন্ত্রিসভায়। টেকনোক্রেট সদস্য হিসেবেও একাধিক মুখ থাকতে পারেন।
এদিকে, সোমবার দুপুরে সচিবালয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের এবং বিকালে মন্ত্রিসভার শপথ হবে।
মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে ৪৩টি। মন্ত্রিপরিষদের চাহিদা অনুযায়ী, ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গতকাল বলেন, নতুন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য ৩৭টি বাড়ি বা বাসা প্রস্তুত করা হয়েছে।
সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৩৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে ৪৭ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ছিলেন। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫ মন্ত্রী ও ১৯ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে ভাগ করে দুটি মন্ত্রণালয় করা হয়। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দু’টি করে বিভাগে পৃথক করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভাগ দু’টিকে একীভূত করেছে। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার প্রাথমিক সদস্য সংখ্যা ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৯ জন। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩ জন হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা শুরুতে ছিল প্রধানমন্ত্রীসহ ৩২ জন। পরে বিভিন্ন রদবদল ও সমপ্রসারণের মাধ্যমে এ সংখ্যা ৬২ জন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
এর আগে ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি’র মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৬০ জন। এর মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন।
গত ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। ২৯৯টি আসনের মধ্যে দু’টি আসনে জয়ী বিএনপি’র প্রার্থীর ফলাফল প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২ আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি।
প্রস্তুত সংসদ প্লাজা: নতুন মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংসদ ভবনকে প্রস্তুত করা হয়েছে। নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অস্থায়ী মঞ্চ, অতিথি গ্যালারি, ভিভিআইপি জোন ও গণমাধ্যম কর্নার তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলোকসজ্জা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামত শেষ করে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে সংসদ ভবন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত সরকার। গতকাল জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ এর পরিচালক (উপ-সচিব) মো. এমদাদুল হক স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। শপথের আমন্ত্রণপত্র ইস্যু করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের কাছে শপথের আমন্ত্রণপত্র কোনো কারণবশত হস্তগত না হলে শপথ গ্রহণের দিন সংসদ ভবনের টানেলের অভ্যন্তরস্থ মূল প্রবেশপথে অবস্থিত ফ্রন্ট ডেস্ক থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এনআইডি সঙ্গে রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, সংসদের ৬ নম্বর গেট দিয়ে আগত অতিথিরা প্রবেশ করতে পারবেন। এ ছাড়াও ১, ১১ ও ১২ নম্বর গেট খোলা থাকবে। পাস ছাড়া সংসদের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।
সোমবার সরজমিন সকাল থেকে সংসদ ভবন এলাকা ঘুরে দুই শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির নানা আয়োজন দেখা গেছে। শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সাজানো হচ্ছে সংসদ ভবন এলাকা। দেখতে আসছে ঢাকার আশপাশের জনসাধারণ। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসছেন, ছবি তুলছেন। তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই কারোরই। পুরো সংসদ ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। সবগুলো প্রবেশ গেট ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। মূল প্রবেশ গেটটিও বন্ধ। ফটকে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। প্রধান সড়ক থেকে সংসদের মূল ভবনের সামনে লোকজনকে কাজ করতে দেখা গেছে। সংসদ ভবন এলাকায় রাস্তার পাশে বাইরে প্রস্তুত করা হচ্ছে লাইভ স্ক্রিন। শপথ অনুষ্ঠান লাইভ স্ক্রিনের মাধ্যমে দেখানো হবে।
সরজমিন আরও দেখা যায়, জাতীয় সংসদ ভবন ধোয়া-মোছার কাজ প্রায় শেষের দিকে। সংসদের বাইরে প্রস্তুত হচ্ছে সাউন্ড সিস্টেম। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও শপথ গ্রহণ কক্ষে শপথ অনুষ্ঠানসহ অধিবেশনের প্রস্তুতির কাজও চলছে। সংসদের বাইরে সদস্যদের বরাদ্দ করা কক্ষগুলো সাজানোর কাজও চলমান রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের দিন গণভবনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ ভবনেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। সংসদ ভবন সূত্র জানিয়েছে, গণ-অভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। নির্বাচনের দু’দিন পর শনিবার থেকে সেখানে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।
এদিকে, বিএনপি’র সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবন দলীয় সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নামের প্রস্তাব গৃহীত হবে। পরে বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠান হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে দুই দফায় শপথ হবে। একটি হলো- সংসদ সদস্যদের শপথ এবং পরবর্তীতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের জন্য শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া, বিকালে মন্ত্রিসভার শপথ হবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শপথ শেষে সদস্যরা নির্ধারিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। আসনওয়ারি শপথ ফরম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইদিনে বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। শপথের পরপরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন শতাধিক বিদেশি অতিথি: নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশি শতাধিক অতিথি অংশ নিচ্ছেন। যার মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, ভারতের লোকসভা স্পিকার, পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী, নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, বৃটিশ সরকারের ইন্দো-প্যাসিফিক মিনিস্টার, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখযোগ্য। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৩ দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানকে নির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই আসছেন বিদেশি অতিথিরা। তাছাড়া ঢাকা থেকে যোগ দিবেন বিদেশি মিশন এবং দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা।
আজ মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। শপথ অনুষ্ঠানে কমবেশি ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি যোগ দিতে পারেন।
কূটনৈতিক সূত্র মতে, ড. ইউনূসের আমন্ত্রণ রক্ষায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মইজ্জু ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে শপথ অনুষ্ঠানে হাজির হচ্ছেন সশরীরে। বাকিরা প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছিলেন আমন্ত্রিত। কিন্তু তার দেশে এআই সামিটে অংশ নিতে ওই সময়ে প্রায় ২০ জন বিদেশি অতিথি থাকছেন। সঙ্গত কারণেই তিনি বা তার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বিদেশে যেতে পারছেন না। ফলে তার বদলে আসছেন ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এরইমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা। আজ আসছেন সার্কভুক্ত অপর রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা। দেরিতে হলেও নির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি ডেলিগেশন পাঠাচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেফ এরদোগান। জানা গেছে, তারা ভোরে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন। ৩ সদস্যের ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিবেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বাসেডর এ বারিস ইকিঞ্চি। সেগুনবাগিচা এটা নিশ্চিত করেছে, বিদেশি অতিথিদের মধ্যে হাইপ্রোফাইল অতিথিদের প্রত্যেকেই শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই জাতীয় সংসদ ভবনস্থ সংসদ নেতার কার্যালয়ে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন।
শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছেন বৃটিশ মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা
ওদিকে নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সন্ধ্যায় ঢাকা পৌঁছেছেন বৃটিশ ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্দো-প্যাসিফিক সীমা মালহোত্রা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ইউরোপ) মোশারফ হোসেন তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। সীমা মালহোত্রা একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং লেবার পার্টির সদস্য। ২০২৪ সালের জুলাই লেবার পার্টির নির্বাচনী বিজয়ের পর তিনি প্রথমে হোম অফিসে পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তিনি ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসে ইন্দো-প্যাসিফিক-বিষয়ক পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে নিযুক্ত হন।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বৃটেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে এশিয়া-প্যাসিফিক দেশসমূহ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বাংলাদেশের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত। সীমা মালহোত্রা এই অঞ্চলে বৃটেনের নীতি, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মানবাধিকার দেখভাল করেন। বাংলাদেশের সঙ্গে বৃটেনের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ বৃটেনের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়ন সহায়তায় দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।