ভোটের অপেক্ষায় সবাই। আগামীকাল সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে গতকাল প্রথম আলো কথা বলেছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেলিম জাহিদ।
এক দিন পরই তো ভোট, টানা ১৯ দিনের প্রচারে সহিংসতা সে অর্থে খুব বেশি হয়নি। ভোটের দিনটা কেমন হবে বলে মনে করছেন?
মিয়া গোলাম পরওয়ার: বড় ধরনের সহিংসতা বলতে হত্যাকাণ্ড তো হলো; শেরপুরে জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শিডিউল (তফসিল) ঘোষণার পরে তিনজন মারা গেছেন। আর নারী কর্মীদের প্রতি যে সহিংসতা বিএনপির নেতা-কর্মীরা করছে, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। তারা হিজাব টেনে ফেলছে এবং একজন বোরকা পরা মা প্রতিবাদ করলে তাঁকে পেটে লাথি মারল। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যারা এসব করছে, তাদের কাছে দেশ কত নিরাপদ থাকবে, তা মানুষ বুঝতে পারে।
ভোটের দিনের ব্যাপারে আমরা এখনো উদ্বিগ্ন। কারণ, গতকালও (সোমবার) আমাদের মিছিলে বিএনপির লোকেরা হামলা করেছে, ডুমুরিয়ায় আমার নিজের একটি উঠান বৈঠক তারা বানচাল করে দিয়েছে। আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো খুব একটা উন্নতি দেখছি না। সরকার যদি শক্ত হাতে এসব বন্ধ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করত, তবে আমরা আশাবাদী হতে পারতাম। এখনো সময় আছে। আমরা চাই, সরকার ও জনগণ যেন একটি সহিংসতামুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন পায়।

প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন সময় আপনারা প্রশ্ন তুলেছেন। জামায়াতসহ অন্য দলগুলোও প্রশ্ন তুলেছে। ইসির নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে কোনো সংশয় আছে?
গোলাম পরওয়ার: আস্থা তো আমরা রাখছি। তবে আস্থা ভঙ্গ হওয়ার মতো আচরণও মাঝেমধ্যে দেখা যায়। কোনো অপরাধকে তারা খুব লঘু করে দেখছে, আবার এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সাধারণ বিষয়কে বড় করে দেখছে। তাদের উচিত সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। আমরা এখনো আশাবাদী যে নির্বাচনের এখনো এক দিন বাকি আছে, তারা সঠিক ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে।

ভোট নিয়ে কি কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করেন?
গোলাম পরওয়ার: অকাট্য প্রমাণসহ বলতে পারব না, তবে জনমনে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর (কারচুপি) একটি আশঙ্কা শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলে, যখন কোনো দলের সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে যায়, টাকা দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে কাজ হয় না, তখন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটা আশঙ্কা অনেক জায়গা থেকে শোনা যাচ্ছে যে ভোরবেলা ভোট হবে, সহিংসতা করে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে। এটার অথেনটিসিটি নিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে, প্রশাসনের উচিত এই জায়গাগুলো থেকে সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া।
নির্বাচনী মাঠে নিজের জয়ের ব্যাপারে কোনো চাপ অনুভব করছেন?
গোলাম পরওয়ার: না, আলহামদুলিল্লাহ আমি আশাবাদী জয়ের ব্যাপারে। ভোটারদের যে ভালোবাসা ও সমর্থন আমি দেখতে পাচ্ছি, তাতে আমি কখনোই নিরাশ নই। আমি ইতিবাচক সব সময়ই। যদি ভোটাররা বাধাহীনভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং সঠিকভাবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা হতে পারে তো আমি মনে করি, কোনো অসুবিধা হবে না ইনশা আল্লাহ।
এবারের নির্বাচনী প্রচারে বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর একাত্তরের ভূমিকা এবং আপনাদের পক্ষ থেকে দখল-চাঁদাবাজিকে সামনে আনা হয়েছে। মানুষ কোনটাকে গ্রহণ করছে বলে আপনার মনে হয়?
গোলাম পরওয়ার: এগুলো মীমাংসিত ইস্যু। একাত্তর ইস্যুতে শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সবকিছু তাঁরা মীমাংসা করেই গেছেন। ৫০-৫৫ বছর আগের ইস্যু তাঁরাই টেনে আনেন, যাঁরা রাজনীতিতে কখনো কখনো পায়ের তলায় মাটি দেখতে পান না, তখন ওগুলো টেনে এনে যদি সুবিধা করা যায়। রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যে এটাকে তাঁরা ব্যবহার করেন। এগুলো মানুষ আর ‘খায়’ না। এখন মানুষ প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহার, কমিটমেন্ট দেখে।
আপনাদের বিরুদ্ধে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
গোলাম পরওয়ার: ধর্মের ব্যবহার আমরা করি না, যারা অভিযোগ করে তারাই ধর্ম ব্যবহার করে। আমরা জামায়াতে ইসলামীর লোকেরা সব সময়, ১২ মাস, সারা জীবন ধর্মকে মানি এবং ধর্মের ভিত্তিতে আমরা জীবন গড়ি। আর যারা সারা বছর খবর রাখে না এবং ভোটের সময় নতুন পাঞ্জাবি-টুপি পরে মসজিদে যায়, দোয়া চায়; সেটাকেই বলে ধর্মের ব্যবহার বা ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি করা। যারা মৌসুমে ধর্মকর্ম করে, সেটাই ধর্ম ব্যবসা, সেটা ওনারা করেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে যদি হেরে যান, মেনে নেবেন?
গোলাম পরওয়ার: হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিশ্বাসী। নির্বাচন কমিশন ও সরকার সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার পর জনগণ যে রায় দেবে, আমরা সে রায়ের প্রতি সম্মান জানাব।