‘আমি কোনো নেত্রী হিসেবে আসিনি, আমি আপনাদের আলমগীর স্যারের বেটি হিসেবে এসেছি।’ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ের বেগুনবাড়িতে নির্বাচনি পথসভায় এভাবেই আবেগঘন গলায় নিজের পরিচয় দিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা। বাবার জন্য ভোট চাইতে গিয়ে তার এই বিনয়ী ভঙ্গি এবং সহজ-সাধারণ সম্বোধন স্থানীয়দের হৃদয়স্পর্শ করেছে।
রাজনৈতিক মহলে মির্জা ফখরুল দাপুটে নেতা হলেও, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে তিনি আজও অনেকের কাছে সেই ‘আলমগীর স্যার’। বাবার সেই শিক্ষক সত্তাকেই ঢাল করে এদিন ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হন কন্যা ড. শামারুহ মির্জা।
পথসভায় শামারুহ মির্জা ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে তার বাবার অবদানের কথা তুলে ধরেন। বক্তব্যে উঠে আসে শিক্ষার প্রসার, জেলাজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়া এবং স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে মির্জা ফখরুলের নিরলস ভূমিকার কথা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়ন—বেগুনবাড়িসহ সংলগ্ন এলাকার রাস্তাঘাট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উঠে আসে। বিপদে-আপদে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার পারিবারিক ঐতিহ্যের স্মৃতিচারণও করেন তিনি।
শামারুহ মির্জা আরও বলেন, আমার বাবা আপনাদেরই মানুষ। রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি বারবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, কিন্তু আপনাদের ছেড়ে যাননি। একজন নেতার চেয়েও তিনি আপনাদের প্রিয় শিক্ষক এবং অভিভাবক হিসেবে বেশি গর্ববোধ করেন।
এলাকার প্রবীণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, বর্তমান প্রজন্মে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে ‘আলমগীর স্যার’-এর সেই পুরনো ছাত্ররা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেবেন।
ড. শামারুহ মির্জার এই সোজাসাপ্টা কথাগুলো উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। ভোটের লড়াইয়ে যখন রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুঁড়ি তুঙ্গে, তখন ফখরুল কন্যার এমন স্পর্শকাতর প্রচার বেগুনবাড়ির নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।