রাজশাহী বিভাগের বেশির ভাগ আসনে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে বিএনপি ও তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের। কোথাও জামায়াতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আবার কোথাও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কারণে ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই বিএনপির ভোটের হিসাবনিকাশ জটিল হচ্ছে। বিএনপির প্রার্থীরা অবশ্য বলছেন, ভোটের মাঠে ধানের শীষেরই জোয়ার আছে। তবে তারা এখন ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট সংসদীয় আসন ৩৯টি। এর মধ্যে অন্তত ২৭ আসনে জামায়াতে ইসলামী এবং দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপির প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। আর মাঠের পরিস্থিতিতে বাকি ১২ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের এগিয়ে রাখছেন এলাকার ভোটাররা। যে ২৭ আসনে ভোটের হিসাব জটিল, তার মধ্যে অন্তত ৭টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে বলে দাবি তাদের। অন্য ২০টি আসনে লড়াই হবে সমানে সমান।
৮ আসনে বিদ্রোহ : বিভাগের ৮টি আসনে বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এসব আসনে ভোটের হিসাব জটিল। এর মধ্যে রাজশাহী-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী দুজন- ইসফা খায়রুল হক শিমুল ও রেজাউল করিম। নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমীন পুতুলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন বিদ্রোহী তাইফুল ইসলাম টিপু। নাটোর-৩ আসনে বিএনপির আনোয়ারুল ইসলাম আনুর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী দাউদার মাহমুদ। নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমানের মুখোমুখি সাবেক এমপি ছালেক চৌধুরী। নওগাঁ-৩ আসনে বিএনপির ফজলে হুদার বিপরীতে বিদ্রোহী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী।
২১ আসনে লড়াই জমাচ্ছে জামায়াত : রাজশাহী বিভাগের অন্তত ২১ আসনে লড়াই জমিয়ে তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। কোথাও কোথাও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে তারা সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনের সঙ্গে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপির শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-৪ আসনে ধানের শীষের ডি এম ডি জিয়াউর রহমান জিয়ার সঙ্গে জামায়াতের ডা. আবদুল বারী সরদার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির হারুনুর রশীদের সঙ্গে জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুল, নাটোর-৪ আসনে বিএনপির আবদুল আজিজের সঙ্গে জামায়াতের আবদুল হাকিমের লড়াই হবে।
নওগাঁ-১ আসনে বিএনপি ও তাদের বিদ্রোহীর সঙ্গে লড়াই জমিয়েছেন জামায়াতের মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনে বিএনপির সামসুজ্জোহা খানের সঙ্গে জামায়াতের এনামুল হক, নওগাঁ-৪ আসনে বিএনপির ইকরামুল বারী টিপুর সঙ্গে জামায়াতের আবদুর রাকিব, নওগাঁ-৫ আসনে বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলুর সঙ্গে জামায়াতের আবু সাদাত মো. সায়েম, জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির মাসুদ রানা প্রধানের সঙ্গে জামায়াতের ফজলুর রহমান সাঈদ, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির এম আকবর আলীর সঙ্গে জামায়াতের রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির আমিরুল ইসলাম খানের সঙ্গে জামায়াতের আলী আলমের লড়াই হবে বলে ভোটাররা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া পাবনা-১ আসনে বিএনপির শামসুর রহমানের সঙ্গে প্রয়াত মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, পাবনা-৩ আসনে বিএনপির হাসান জাফির তুহিনের সঙ্গে জামায়াতের মুহাম্মদ আলী আছগার, পাবনা-৪ আসনে বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে জামায়াতের আবু তালেব মণ্ডল ও পাবনা-৫ আসনে বিএনপির শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সঙ্গে জামায়াতের ইকবাল হোসাইন লড়াই জমিয়েছেন। এদিকে দলের দুর্গ হিসেবে খ্যাত বগুড়ার বেশির ভাগ আসনেও বিএনপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।