গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার বিমানবাহিনীর ড্রোনের মাধ্যমে ভোটের পরিস্থিতি লাইভ পর্যবেক্ষণ করবে সরকার।
ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম ইতোমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৃথক পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাহিনী, সংস্থা ও বিভাগ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনকালীন যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা নির্ণয়, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি অত্যন্ত সহায়ক হবে।
এ অবস্থায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পাদনের স্বার্থে বিমানবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি কর্তৃক ড্রোন মোতায়েন করে ড্রোনের লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবাহিনীর ড্রোনের লাইভ ফিড নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও প্রদান করতে হবে বলে বিমানবাহিনীর কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আজ সকাল সাড়ে ৭টায় নির্বাচনি প্রচার নিষিদ্ধ হচ্ছে। গতকাল দিনভর শেষ মুহূর্তের প্রচারে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনের সময় সংস্কারকাজে টেলিযোগাযোগ ‘বিঘ্নিত’ করা যাবে না :
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সংস্কারকাজে টেলিযোগাযোগ বিঘ্নিত না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব ইতোমধ্যে সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবকে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে টেলিযোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সমিশন সংযোগ যেন বিচ্ছিন্ন না হয়, সে লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন হাইওয়ে/রাস্তার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
দুই ঘণ্টা পরপর কাস্টিং ভোটের হার জানাবে ইসি : ভোট গ্রহণ চলাকালে কাস্টিং ভোটের হার দুই ঘণ্টা পরপর জানানো হবে। নির্বাচন কমিশন এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম এমন নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোট কেন্দ্রভিত্তিক প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা নির্ধারিত সময় অন্তর সংগ্রহ ও যাচাই করে ইসি নির্ধারিত ডিজিটাল সিস্টেমে আপলোড করা হবে, যা কমিশন পর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এতে বলা হয়েছে, দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর ভোট কেন্দ্রভিত্তিক প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা প্রেরণ করতে হবে।
নির্বাচনি এলাকায় সাড়ে ৮১ ঘণ্টা ‘বহিরাগত অবস্থানে’ নিষেধাজ্ঞা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বেশ কিছু বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ভোট গ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোট শেষের ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত মোট সাড়ে ৮১ ঘণ্টা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা ও অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ওই এলাকায় অবস্থান করতে পারবে না। গতকাল ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোট শেষের ২৪ ঘণ্টা পর অর্থাৎ আজ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান না করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।
প্রার্থী ও এজেন্টরা ব্যবহার করতে পারবেন একটি করে গাড়ি : জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোট গ্রহণের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনি এজেন্টদের চলাচলের ক্ষেত্রে যানবাহন ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে প্রার্থী ও তাঁর প্রতিটি এজেন্ট প্রত্যেকে একটি করে গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন এবং সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজনকে নিয়ে চলাচল করতে পারবেন বলে জানিয়েছে ইসি। ইতোমধ্যে সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়। নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব এলাকায় মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল সম্ভব না, সে ক্ষেত্রে প্রার্থী নিজে ও তাঁর নির্বাচনি এজেন্ট প্রত্যেকে দুটি করে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি মোটরসাইকেলে চালকসহ (বৈধ লাইসেন্সধারী) অনধিক দুজন করে থাকতে পারবেন। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত স্টিকার গাড়িতে প্রদর্শন করতে হবে। প্রার্থী তাঁর নিরাপত্তার জন্য গানম্যান নিয়োগ করে থাকলে গানম্যানও পাঁচজনের অন্তর্ভুক্ত হবেন। প্রার্থী নির্বাচনি এজেন্ট ব্যতীত তাঁদের সঙ্গে থাকা অন্য কেউ ভোট কেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।