Image description

রহস্যময় নীরব রিটার্নিং কর্মকর্তা। কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে গড়িমসি চলছে। ভোটের প্রস্তুতিতেই বেশি ব্যস্ত তিনি। অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে প্রার্থীরা মুখোমুখি। সেদিকে নজর নেই তার। কী করবেন- সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে বিব্রত মাঠের নির্বাচনী কর্মকর্তারা। হার্ডলাইনে বিএনপি। নানা অভিযোগ নিয়ে দফায় দফায় গেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। করেছেন বৈঠকও। গতকাল দুপুরে সিলেট বিএনপি’র নেতারা সিলেট-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী হাবিবুর রহমানের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। প্রমাণসহ অভিযোগ জানিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে। বিএনপি’র দাবি; জামায়াত প্রার্থী ঋণের তথ্য গোপন করেছেন। এই অভিযোগ গত তিনদিন ধরে করছেন তারা। বিএনপি প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদিরের পক্ষে এ অভিযোগ দাখিল করেন তার নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। অভিযোগে কয়েস লোদী জানিয়েছেন- হাবিবুর রহমান ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেডের পরিচালক এবং আল কারামা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার। তবে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় এই তথ্য উল্লেখ করেননি। এ ছাড়া ইবনে সিনা হাসপাতালের ২৪ কোটি ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৮ টাকা টাকার ঋণ অনাদায়ী রয়েছে যা হলফনামায় প্রকাশিত হয়নি। 

তিনি জানিয়েছেন- এই অভিযোগ প্রমাণসহ দাখিল করেছেন। এটি শুধু গোপনই নয়, শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও তিনি জানান। এর আগে কয়েস লোদী জামায়াত প্রার্থী হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ দেন সংখ্যালঘু ভোটারদের হুমকি দেয়ারও। ভোটকেন্দ্র দখলেরও শঙ্কা করেন। বাড়ি বাড়ি বোরকা পরা মহিলাদের পাঠিয়ে টাকা বণ্টন ও ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও করা হয়। একটি গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে এয়ারপোর্ট থানার ওসি মোবাশ্বিরের বিরুদ্ধে। ওসি সরাসরি জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। বিএনপি’র কাঠগড়ায় থাকা ওসি মোবাশ্বির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে গতকাল জামায়াত নেতারাও তার পক্ষে কথা বলেছেন। ওসি মোবাশ্বির আইন মতো কাজ করেছেন বলে জানান তারা। এজন্য তারা ৫নং ওয়ার্ডের এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। ওই বিএনপি নেতা হচ্ছেন সাহেদ। আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ি কেন্দ্রিক একটি ঘটনা ঘটেছে। 

যেখানে পুলিশ ও বিএনপি’র নেতারা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ওসি’র নাটকীয় ভূমিকায় বিএনপি নেতারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তবে বিএনপি’র অভিযোগ আমলে নিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন- ‘বিএনপি’র অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তের জন্য অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. আফজাল হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’ সিলেটের ভোটে গণজোয়ার চলছে খন্দকার মুক্তাদিরের পক্ষে। সজ্জন প্রার্থী। বিতর্ক নেই তার বিরুদ্ধে। পাড়া-মহল্লায় বিএনপি’র পক্ষেই ভোটের অবস্থান বেশি। মুক্তাদিরের নির্বাচনী সমাবেশ রূপ নিচ্ছে গণসমাবেশে। এমন ঘটনা সিলেটের ভোটে বিরল। এই অবস্থায় গতকাল দুপুরে জামায়াত নেতারা ভোটে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তারাও করেছেন প্রেস ব্রিফিং। এতে তারা বিএনপি’র বিরুদ্ধে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছেন। সিলেট-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী হাবিবুর রহমানের নির্বাচনী কার্যালয়ে ১১ দলের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন নগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন- হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে সেটি সত্য নয়। নির্বাচনে পেশিশক্তির ব্যবহার, কেন্দ্র দখলসহ নানা ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি’র কর্মীরা। তারা এরই মধ্যে একাধিক ঘটনা ঘটিয়ে নির্বাচনের পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। এজন্য প্রশাসনকে আরও বেশি ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।