Image description
 

দীর্ঘ ২০ বছর পর দিনাজপুরে নানিবাড়ি এসে আবেগতাড়িত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনি প্রচারণায় এসে নানি-নাতির সম্পর্কের চিরন্তন ভালোবাসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নানিবাড়িতে নাতি এলে তাকে খালি হাতে ফেরানো হয় না। তাই আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে সবার কাছে ধানের শীষে ভোট ‘উপহার’ চান তিনি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তারেক রহমান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে বহু বছর পর আমি আমার নানিবাড়িতে এসেছি। নানিবাড়িতে এলে নাতিকে যেমন ভালোবাসা ও আপ্যায়ন করা হয়, ঠিক তেমনই ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই আজ আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।

ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর তার নানীর বাড়ি এবং এই এলাকার মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, নানিবাড়ির মানুষদের কাছে আমি ভোট চাই। আপনারা আমাকে খালি হাতে ফেরাবেন না।

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য কাটারী ভোগ চাল ও লিচুকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর শুধু দেশের খাদ্যভাণ্ডার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিশক্তির অন্যতম প্রতিনিধি হওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে।

দিনাজপুরের কৃষিসম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানকার মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং মানুষ পরিশ্রমী। কাটারী ভোগ চালের সুগন্ধ ও স্বাদ যেমন অতুলনীয়, তেমনি দিনাজপুরের লিচু দেশের অন্যতম সেরা ফল।এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য কৃষির সঙ্গে শিল্পায়নের সমন্বয় জরুরি।

দিনাজপুরের বিশ্বখ্যাত লিচু ও কাঠারিভোগ চালের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিনাজপুরের লিচু শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে পরিচিত। অথচ আজও আমরা লিচু প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারিনি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দিনাজপুরে আধুনিক হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। এতে লিচু সংরক্ষণ ও রপ্তানি সহজ হবে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবে। একইভাবে কাঠারিভোগ চাল রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় শিল্পকারখানা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

তারেক রহমান জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, সংরক্ষণাগার ও রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা স্থাপন করা হবে। এর ফলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্য রপ্তানি সহজ হবে। তিনি দিনাজপুরকে একটি আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্প অঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৬ আসনের প্রার্থী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ জেলা ও উপজেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান নীলফামারীর জনসভা শেষ করে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দিনাজপুরের বিরামপুরে পৌঁছান।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর দিনাজপুরে এলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমনে নেতা-কর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শনিবার সকাল ১১টার পর থেকে সভাস্থলে মানুষ আসতে শুরু করে। পরে কানায় কানায় সমাবেশ স্থল মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়। এর আগে ২০০৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরে খানসামায় জিয়া সেতুর উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তারেক রহমান।

 

শীর্ষনিউজ