ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই খুলনায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) সরব হয়ে উঠেছে। প্রবীন এই সংগঠনটি খুলনার তিনটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে যায়নি। সংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে খুলনা-২ (সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সমর্থন দিচ্ছে মুসলিম লীগ।
জানা যায়, দক্ষিণ জনপদের এ বড় শহর একসময় মুসলিম লীগের ঘাঁটি ছিল। দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান এ সবুর অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুর পর সমর্থকরা বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়ে। ১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেনি। ক্ষুদ্র সাফল্যের মধ্যে ছিল ১৯৮৪ সালে দলের মনোনয়নে সর্বশেষ পৌরসভার নির্বাচনে শেখ সিরাজুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এক পর্যায়ে তিনি জাপায় যোগ দিলে দলটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এরশাদের সামরিক শাসনের মধ্যে দলের সাংগঠনিক কাঠামো বেশ জোরদার ছিল। পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে দলের অস্তিত্ব হারায়।
সর্বশেষ সম্মেলনে অধ্যাপক ফকির রেজাউদ্দিন, শেখ বাবর আলী, শেখ জাহিদুল ইসলাম ও আক্তার জাহান রুকু নেতৃত্বে আসেন। এ কমিটির মেয়াদও শেষ। দলের নেতা খান এ সবুরের মৃত্যুবার্ষিকী (২১ ফেব্রুয়ারি) ও ইফতার মাহফিল ছাড়া দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি নেই এই সংগঠনটির।
কেন্দ্র অগোছালো থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভীত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারপরও খুলনা-২ আসনে অ্যাড. আক্তার জাহান রুকু, খুলনা-৩ আসনে অধ্যাপক ফকির রেজাউদ্দিন ও খুলনা-৪ আসনে শেখ বাবর আলীকে দল প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেয়। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে এবং জেলা সভাপাতির অসুস্থতার জন্য কারও মনোনয়ন জমা হয়নি।
জানতে চাইলে নগর সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জেলার সার্বিক কল্যাণে এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য তারা বিএনপিকে সমর্থন দেবে।’ সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চায় এ মুহূর্তে তারেক রহমানের বিকল্প নেই বলে তিনি অভিমত দিয়েছেন। তার বিশ্বাস দেশের এই শীর্ষ দলটি এ জনপদের সুখ-দুঃখের সাথী হবে।
আমাদের সময়