Image description

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আমি শুনেছি সরকারের একটি মহল কয়েকজনের লিস্ট করেছে তাদের পাস করাতে হবে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে কারও কারও প্রতি দুর্বলতা দেখা গেছে।’

 

তিনি বলেন, ‘কয়েকজন প্রার্থী বলছেন তারা জিতেই গেছেন। আবার সরকারের কেউ কেউ বলছেন তাদের সংসদে যাওয়া উচিত। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে। এটি খারাপ। ভোট পাক বা না পাক তাদের সংসদে পাঠাবে।’

 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলে হক ক্যাসেল ফ্ল্যাট-মালিকদের সঙ্গে নির্বাচনি মতবিনিময় সভা শেষে গণসংযোগকালে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এর আগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা-৮ আসনে পোলিং এজেন্টের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। রাতে শান্তিনগর ইস্টার্ন পয়েন্ট আবাসিক ১৮০টি ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে নির্বাচনি মতবিনিময় সভা করবেন মির্জা আব্বাস।

 
 

 

পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর জেলে থেকেছি, বছরের পর বছর আন্দোলন করেছি। সেই আন্দোলনের পথকে আমরা সুগম করেছি। সুতরাং এককভাবে ২৪-এর দাবিদার কেউ নয়। কিন্তু এখন অনেকে এমনভাবে ভাবছে, কাজকর্ম ও কথা বলছে—যেন তারা দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীন করেছে।’

 

নিঃস্বার্থ ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যুদ্ধ করেছি, কিন্তু কখনো বলিনি যে আমাদের ক্ষমতা দিতে হবে, আমাদের মন্ত্রী বানাতে হবে। অথচ যারা তখন স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করছিল, আজ তারাই নানা দাবি করছে। প্রমাণস্বরূপ বলা যায়, কয়েক দিন আগেও সরকারের মধ্যে তাদের প্রতিনিধিরা ছিল, এখনো আছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ধারণা, আমরা যে সময় পার করে এসেছি, তার চেয়েও ভয়াবহ সময় সামনে আসছে। এই সরকার, কিংবা আগামী সরকার, কিংবা অন্তর্বর্তী সরকার—যে কেউই হোক না কেন, বিশ্বের কিছু প্রতিষ্ঠিত শক্তি আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবে না।’

 

জামায়াত মদদপুষ্ট গোষ্ঠী এখন ক্ষমতায় আছে অভিযোগ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনারা ইতোমধ্যে বুঝতে পারছেন, একটি জোটের প্রার্থীদের কথাবার্তা ও কিছু রাজনৈতিক দলনেতার বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে তারা আগেই ক্ষমতায় বসে আছে। আসলে তারা ক্ষমতায় বসেই আছে। জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠী এখন ক্ষমতায় রয়েছে। এখান থেকেই তারা ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে আগামী নির্বাচনকে নিজেদের মতো করতে চায়।’

 

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘তারা সব সময় বলে—বিএনপি, বিএনপি, বিএনপি। ভাই, বিএনপি তো ১৭-১৮ বছর ক্ষমতায় নেই। এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারাই তো নির্বাচনসূচি ঠিক করেছে, কমিশনে বসেছে, স্কুল-কলেজে প্রভাব বিস্তার করেছে। বিএনপি কোথায়? বিএনপি তো সামনে আসছে, নির্বাচন জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন বিএনপিকেও টার্গেট করা হচ্ছে। ভাবসাবটা এমন—আওয়ামী লীগকে তাড়ানো হয়েছে, এবার বিএনপিকেও তাড়িয়ে দেওয়া হবে।’

 

আব্বাস বলেন, ‘আমি আগেও বক্তৃতায় বলেছি—কিছু মানুষ আছে, যারা মনে করে ক্ষমতা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। সুতরাং তারাই ক্ষমতায় থাকবে, তারাই ক্ষমতা নেবে। বিশেষ কিছু লোক—এই বিশেষ লোকদেরই ক্ষমতায় বসাতে হবে—এটাই একটি মহলের অভিপ্রায়। এ ধরনের চিন্তাভাবনার কথা আমাদের কানে আসছে।’

 

‘কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই দেশের সচেতন জনগণ সব সময় ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে ভুল করেনি। তারা সব সময় সঠিক জায়গায় ভোট দিয়েছে। কিন্তু গত ১৮ বছর আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি।’

 

‘আরেকটি বিষয় হলো, আমার এলাকার মানুষ ১৭-১৮ বছর কোনো এমপির চেহারা পর্যন্ত দেখেনি। শুধু নাম শুনেছে। কোথায় থাকেন, ঠিকানা কী—কেউ জানত না। আমি নিজেও খুঁজে পাইনি। একজন নাসিম সাহেব এসেছেন—তিনি এলাকার লোক নন। অথচ এলাকা যেন খোলা মাঠ, যখন খুশি যা বলার বলেন।’

 

স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এই এলাকাতেই জন্মেছি, বড় হয়েছি, স্কুলে পড়েছি। এখানকার মানুষের সঙ্গে আমার সব সময় যোগাযোগ ছিল। আগের প্রার্থী হোক বা এখন যারা আসছে—কেউ বলতে পারবে না তারা কবে এলাকায় এসেছে, কবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। গত ১৭-১৮ বছরে তিন বছরে একবারও কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানে গেছে—এমন কথাও কেউ বলতে পারবে না। এলাকার কারও জন্য এক পয়সা দান করেছে—এমন প্রমাণও নেই।’

 

‘কিন্তু আমি প্রতিটি দুর্যোগে এলাকায় ছিলাম—বন্যা, পানি, বিপর্যয় সব সময়। আমি মন্ত্রী ছিলাম, কিন্তু মন্ত্রিত্বের সুবিধা নিতে যাইনি। মেয়র ছিলাম, কিন্তু গুলশানের মেয়র হাউসে যাইনি। কেন জানেন? কারণ আমার লোকজন কষ্ট করে আমাকে ভোট দিয়েছে। তাদের সমস্যা থাকলে তারা আমাকে কোথায় পাবে? গুলশানে গেলে তারা কীভাবে আসবে? পুলিশি বাধা পেরিয়ে কীভাবে দেখা করবে?’

 

‘এই চিন্তা থেকেই আমি সব সময় এলাকায় থেকেছি। আপনাদের দোয়ায় ও ভোটে আমি তিনবার মন্ত্রী হয়েছি, একবার মেয়র ছিলাম। কিন্তু কখনো মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকিনি।’

 

মানুষের মৌলিক প্রয়োজন মোটানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৭৮ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত নিয়মিত রমনা পার্কে যেতাম। সাত সালের পরে ওয়ান-ইলেভেন এলে সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবুও এলাকার মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা ভেবেছি। আমি দেখেছি, একজন বয়স্ক মা বা বোন বাথরুমে যেতে চান, কিন্তু কোনো টয়লেট নেই। তখন বুঝেছি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন কী। তাই আমি চারটি টয়লেট নির্মাণ করেছি, যাতে বৃষ্টি বা রোদে কষ্ট না হয়। গাছ কাটা হয়েছিল, আমি নতুন করে গাছ লাগিয়েছি। পানির সংকট ছিল, পানির ব্যবস্থা করেছি। ধুলাবালি কমাতে রাস্তায় নিয়মিত পানি ছিটানো হয়েছে।’

 

রমনা পার্ক একসময় ফুলে ভরা ছিল। চারদিকে ফুল দেখা যেত। এখন আছে কিনা জানি না, কিন্তু তখন সত্যিই সুন্দর ছিল।

 

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সব সময় আপনাদের হাতের কাছে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামী দিনেও বলছি—আমাকে খুঁজতে হবে না। একটি ফোন দিলেই হবে। বাসায় না পেলে ফোন দিয়ে জানাবেন—ইনশাআল্লাহ, আমাকে পাবেন।’