Image description

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের এই ইশতেহার নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। বুধবার (৪ ফ্রেব্রুয়ারি) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘গণমানুষের ইশতেহার। কারো কথা বাদ যায়নি, এসেছে সবার কথা। তরুণ হিসেবে আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে ভর্তি পরীক্ষা ও চাকরির আবেদন ফি বাতিল করার বিষয়টি।’

জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, সদ্য অনার্স-মাস্টার্স করা ছেলেটাকে হল ছেড়ে মেসে উঠতে হয়। খরচ বেড়ে যায় হুট করে, এরই মধ্যে চাকরির আবেদন করতেই চলে যায় অনেক টাকা। বিষয়টা জামায়াত খেয়াল করেছে, তাদেরকে ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, তরুণদেরকে সেন্টারে রেখেই জামায়াতের রাষ্ট্রকল্প। আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তরুণরা থাকবে রাষ্ট্রের ড্রাইভিং সিটে। ইশতেহারে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। শিক্ষিত ও আদর্শ তরুণ প্রজন্ম গড়তে শিক্ষা খাতের সংস্কার, উন্নয়ন ও গবেষণা বাজেট বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এসবের অন্যতম দিক। তরুণদের রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার না বানিয়ে দেশ গড়ার কারিগর বানানোই জামায়াতের লক্ষ্য।

ডাকসু ভিপি বলেন, জামায়াত ভেবেছে আমার পরিবারের কথা। দরিদ্র পরিবারে কর্জে হাসানাহ এবং উৎপাদনমুখী প্রজেক্টের অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি 'বিভিন্ন কার্ড' এর চেয়ে অধিক বাস্তবসম্মত। এদেশের ৫০% জনগণ নারী। জামায়াত তাদেরকে নিয়ে অংশগ্রহণমূলক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। বর্তমান বিশ্ববাস্তবতা জামায়াত উপলব্ধি করে। এটা স্পষ্ট হয়েছে জামায়াতের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ইশতেহারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, জামায়াত 'নতুন মিলিটারি ডক্ট্রিন' তৈরি করবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঢেলে সাজাবে এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে, তরুণদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনবে।

প্রবাসীদের নিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, সব সরকারই দেশ চালায় প্রবাসীদের টাকায়। কিন্তু প্রবাসীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেনা। জামায়াত প্রবাসীদের নিয়ে ১২ পয়েন্টের ইশতেহার দিয়েছে। সকল সিন্ডিকেটের অবসান, সহজ বিদেশগমন এবং বিদেশে যেকোনো সমস্যার পড়লে বাংলাদেশের এম্বাসি সকল কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। প্রবাসীদের নিয়ে সবচেয়ে ভালো ইশতেহারটা হল, প্রবাসে আমাদের কেউ মারা গেলে তার দেহ দেশে আনতে হেনস্থায় পড়তে হবে না৷ জামায়াতের সরকার বিনা খরচে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে আনার ব্যবস্থা করবে। আমরা দেখেছি, অনেক প্রবাসী পরিবার টাকার অভাবে আপনজনের লাশটাও দেশে আনতে পারেনা, আনতেও সময় লেগে যায়। একদিকে শোকে মুহ্যমান, অন্যদিকে মরদেহের অপেক্ষা। কি যে যন্ত্রনা, কি যে কষ্ট! জামায়াত এই কষ্ট লাঘব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

শেষে তিনি বলেন, এমন অনেকগুলো ইশতেহারে জামায়াত সকলের জন্য, দেশের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছে। এখানে অল্পকিছু বিষয় উল্লেখ করা হল মাত্র। জামায়াতের ইশতেহার পড়লে আপনি নিজেই অনুভব করবেন, জামায়াত আপনাকে বাদ রেখে নয়, আপনাকে নিয়েই দেশ গড়তে চায়।