Image description
 

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান বলেছেন, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাইরে থেকে সুষ্ঠু দেখানো হলেও বাস্তবে তা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট নির্বাচন। ওই নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে মহাজোটকে বিজয়ী করা হয় এবং এর নীলনকশা দিল্লিতে বসেই আঁকা হয়েছিল।

 

বুধবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর ডিডিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের আয়োজনে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২০১৪ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে মাজেদুর রহমান বলেন, '২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ১৫৩ জন বিনাভোটে নির্বাচিত হন, যেখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫১ জন সংসদ সদস্য। এর মাধ্যমে নির্বাচন ছাড়াই সরকার গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সুন্দরগঞ্জে আমরা সেই নির্বাচন হতে দিইনি। এ জন্য আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে। ওই নির্বাচনে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের শিমুলতলী ভোটকেন্দ্রে আমাদের ভাই শাহাবুল ইসলামকে কুপিয়ে কুপিয়ে  নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ইতিহাস আমরা ভুলে যাইনি।’

 

জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারাদেশে জামায়াত থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রীরা তিনটি মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সামান্য দুর্নীতির প্রমাণও পাওয়া যায়নি। অথচ অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, শুধুমাত্র দলকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য।

 

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষের মুখে এখন একটাই কথা, দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে বিজয়ী করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশ দলীয় জোট বিজয়ী হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, এই প্রত্যাশায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

শ্রীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. তাওহীদুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন এলডিপির জেলা আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, জেলা জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক মো. ছাইফুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মো. সামিউল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগরীর সাবেক সভাপতি মো. মাহমুদ হাসান, এবি পার্টির উপজেলা আহ্বায়ক মো. তাজুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. বদরুল আমীন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. আশানুর রহমান, উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. ইব্রাহীম আলী সরকার, ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা শাহজাহান আলী এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শ্রীপুর ইউনিয়ন সভাপতি ইছা মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ।

এর আগে, দিনভর শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা।