ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। এটা নিয়ে যে আপনারা যে অপসংস্কৃতি শুরু করেছেন, কিন্তু এর যে ধাক্কা আপনারা সেটা নিতে পারবেন না। আমরা তো আপনাদের কিছু বলিনি, ধৈর্যধারণ করেছি। তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাটি থেকে শিবিরের ছেলেরা সর্বপ্রথম সূচনা করেছে জুলাইয়ের পরে।
নোংরা রাজনীতি প্রচলন করতে চান? বাংলাদেশের মাটি আপনাদের স্বীকার করে না। এই মাটিতে বসে বাংলাদেশের সংস্কৃতির উপর আপনারা আঙ্গুল তোলেন। মাথা উচু করে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি করার কোন অধিকার বাংলাদেশে নাই।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে কুমিল্লা টাউন হল মুক্তমঞ্চে ‘তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই সব কথা বলেন।
আবিদুল ইসলাম খান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের নারীর ওপর আপনারা অত্যাচার করেছেন, অন্যায় করেছেন। আমার বাংলাদেশীদের হত্যায় আপনারা সহযোগীতা করেছেন। সেই কি আজকে মিথ্যা ইতিহাস ? আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত। এরা রাজাকার।
কিন্তু আমরা ধৈর্য ধারণ করেছিলাম। আমরা মনে করেছিলাম আপনারা হয়তো সুস্থ রাজনীতি প্রচলনে আপনার ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু আপনারা নোংরামির সূচনা করেছেন। শেষ আপনাদেরকে দেখতে হবে।
জামায়াতের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজাকারের ভূমিকায় ছিল তারা আবারও বাংলাদেশের ইতিহাসকে ৫৪ বছর পর বিকৃত করতে চায়।
আমার মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করতে চায়। তাদের এই কুমিল্লা টাউন হল মাঠ থেকে বলে দিতে চাই, এই বাংলাদেশের মাটিতে যদি রাজনীতি করতে হয়, মহান মুক্তিযোদ্ধা ধারণ করেই করতে হবে। একদিকে যেমন ৭১, একদিকে যেমন ২৪ এগুলো বাংলাদেশের সম্পদ, বাংলাদেশের অস্তিত্ব। এগুলোকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
জুলাই প্রসঙ্গে আবিদুল ইসলাম খান বলেন, যে জুলাইয়ের শক্তি নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছিলাম, আজ দেড় বছর অতিবাহিত হয়েছে, সেই দেড় বছরে যারা জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখ সারির যোদ্ধা ছিলেন, যাদের হাতে তরুণ প্রজন্মের নতুন ভবিষ্যৎ দেখতো বাংলাদেশ, প্রত্যকটা ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়েছে। এই জুলাইকে আমরা যথাযথ উপস্থপন করতে পারিনি। আমরা কেমন বাংলাদেশ ছেয়েছিলাম? আমরা ছেয়েছিলাম আর কোন হানাহানি চলবে না। আর কোন চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী ও দখলদারিত্ব চলবে না। এমন একটা বাংলাদেশ ছেয়েছিলাম। যেখানে নিরাপদে বাসা থেকে বের হতে পারব এবং বাসায় আমি ফিরে যেতে পারব। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমরা যে রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সেই রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি আমাদের মাঝে আবার চলে এসেছে অল্প সময়ের মধ্যে।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই রাজনৈতিক কোন অপসংস্কৃতিতে আর ফিরে যেতে চাই না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাজনীতি হবে শ্রদ্ধা এবং স্নেহের সমন্বয়ে। রাজনীতিবিদদের কাছে রাজনীতিবিদরা সেইফ থাকবে। এর প্রভাব তৃণমুল পর্যন্ত পৌঁছাবে। সেটার মধ্যদিয়ে সমাজে শান্তি বিরাজ করবে। কিন্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি আওয়ামী লীগের সেই নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি রাজনৈতিক সংগঠন পা বাড়িয়েছে। আমাদের বিভিন্ন চেষ্টা করছে আমরাও যেন তাদের মতো এমন আচরণ করি। আমরা বলে দিতে চাই আগামী নির্বাচনের মধ্যদিয়ে আমরা বাংলাদেশে সুস্থ রাজনীতি ফিরিয়ে আইনবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানকে ব্যবহার করে এখনও পর্যন্ত চার আনা পয়সার অনধিকার চর্চা করিনি। যাদের আপনারা সম্মুখসারিতে দেখেছেন সবাই টেন্ডার বানিজ্য করেছে, দুর্নীতি করেছে, চাঁদাবাজি করেছে, টেন্ডারবাজি করেছে। আজকে বিএনপিকে চাদাবাজির অভিযোগ দেয়া হয়। কারা নিয়োগ বাণিজ্য করেছে, উপদেষ্টা বনে গিয়েছে, কারা বাংলাদেশের ভবিষ্যত রাজনীতি ধ্বংস করেছে এগুলো ভুলে যায়েন না।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেত্রী জাহিন বিশ্বাস এশা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শীর্ষনিউজ